নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে ১-১ সমতা। এরপর টাইব্রেকারের স্নায়ুচাপের পরীক্ষায় অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে মিশর। এই জয়ে ৯২ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি।
শনিবার (৪ জুলাই) ডালাস স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে আক্রমণে এগিয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়া। পঞ্চম মিনিটেই মারকো ভলপাতোর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপরও একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি সকারুজরা।
প্রথম কার্যকর আক্রমণেই এগিয়ে যায় মিশর। ১৩তম মিনিটে মোহাম্মদ আশুরর হেডে ১-০ ব্যবধানে লিড নেয় আফ্রিকার দলটি। গোলটি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মোহাম্মদ সালাহ।
বিরতির পর ৫৫তম মিনিটে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। একটি ফ্রি-কিক থেকে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোল করেন মিশরের ডিফেন্ডার হানি। এরপর দুই দলই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও আর গোল হয়নি।
১-১ সমতায় নির্ধারিত সময় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও গোলশূন্য থাকায় ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে শুরুতেই হ্যারি সাউটারের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। পরে জ্যাকসন আরভিন ও আওয়ার মাবিল গোল করলেও হ্যারিংটনের শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে মিশরের হয়ে সাবের, রাবিয়া, মোহাম্মদ সালাহ ও আবদেলমাগুইদ চারজনই সফল স্পট-কিক নেন। ফলে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মিশর।
এই জয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট ম্যাচ জয়ের স্বাদ পেল মিশর। ১৯৩৪ বিশ্বকাপে নিজেদের একমাত্র নকআউট ম্যাচে হাঙ্গেরির কাছে হেরেছিল তারা। দীর্ঘ ৯২ বছর পর আবারও নকআউটে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
শেষ ষোলোতে মিশরের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা অথবা কেপ ভার্দে। অন্যদিকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারল না অস্ট্রেলিয়া।
সময়ের আলো/কেএইচও