ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক বন্ধ করে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ (২২) নিহত হন। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ৩৫ জন অজ্ঞাত আসামির নামে থানায় মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নিহত সুমন শেখের বাবা মিলন শেখ বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও পৌরসভার পূর্ব হাশামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা সজীব মাতুব্বর।
নিহত সুমন শেখ ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের বাসিন্দা মিলন শেখের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ফাস্টফুড ব্যবসায়ী ছিলেন।
এদিকে, ঘটনার পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে পৌরসভার হাশামদিয়া ও আতাদি মহল্লা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। পরবর্তী কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহত সুমনের মা সামেলা বেগম বলেন, সজীব মাতুব্বরসহ যারা আমার ছেলে সুমনকে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। আর কোনো মাকে যেন আমার মতো সন্তান হারানোর শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সুমন শেখ নিহত হন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল সুমন শেখের বাড়ি গিয়ে পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, সে যত বড় নেতাই হোক না কেন, মামলা হয়েছে। মামলা আইন অনুযায়ী চলবে। কোনো ধরনের তদবির বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, ভাঙ্গা উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বর মামলার এক নম্বর আসামি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আজই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তার এই ঘোষণার দুই ঘণ্টা পরেই ফরিদপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব স্বাক্ষরিত দলের অফিসিয়াল প্যাডে লিখিত এক প্রজ্ঞাপনে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্বশত্রুতার জের ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সুমন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সজীবের শর্টগানের গুলিতে সুমন নিহত হন। এরপর থেকেই তাকে গ্রেফতারের দাবিতে ওই এলাকায় দফায় দফায় আন্দোলন চলছে।
সময়ের আলো/জোই