ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম বারুহার গ্রাম থেকে কুতুবকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটারের গ্রামীণ রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জনবহুল এই সড়কটি দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি স্কুল, মাদরাসা ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সময়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের আওতায় কাবিখা প্রকল্পে দুই দফায় ৩০ টনেরও বেশি চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও সড়কটির দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন বা সংস্কার করা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝালকাঠির গাবখান থেকে শেখেরহাটগামী সড়কে গাবখান বাজারের কিছুটা পশ্চিমে বারুহার গ্রামের অবস্থান। এই গ্রাম থেকে পশ্চিম বারুহার হয়ে কুতুবকাঠি স্কুল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটারের রাস্তাটি সম্পূর্ণ কাঁচা। সড়কটি দিয়ে এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। এছাড়া কুতুবকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কুতুবকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী এই পথেই হেঁটে যাতায়াত করে।
বর্তমানে রাস্তাটির অবস্থা এতটাই করুণ যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে হেঁটে চলাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। পুরো সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও বিশাল বিশাল গর্ত, যা সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। এছাড়া এই তিন কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে অন্তত আধা ডজন সুপারি গাছ ও বাঁশের তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো। ফলে এই অঞ্চলের মানুষ এক প্রকার অমানবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা আক্ষেপ করে জানান, তাদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি দীর্ঘকাল ধরে অনুন্নত ও অবহেলিত থাকায় বয়োবৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা কাদা-মাটি মাড়িয়ে যাতায়াতের সময় প্রায়ই হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট করছে। এমনকি রাস্তার এই বেহাল দশার কারণে কোনো মুমূর্ষু রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি থাকে না। অতীতে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে রাস্তায় মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তারা।
যোগাযোগ করা হলে ঝালকাঠি সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী বাকি বিল্লাহ জানান, রাস্তাটি এলজিআরডি আইডি ভুক্ত নয়। তবুও জনগুরুত্ব বিবেচনা করে বরিশাল বিভাগীয় উন্নয়ন প্রকল্পে রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য তালিকাভুক্ত করে সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই