গরম হয়ে ওঠা বিশ্বে বাড়ছে শরীরখেকো ছত্রাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

শরীরের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে খেয়ে ফেলার মতো প্রাণঘাতী ছত্রাকের সংক্রমণ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। আর বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ভবিষ্যতে এই বিপদ

2026-07-05T02:21:52+00:00
2026-07-05T02:21:52+00:00
 
  রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬,
২১ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
গরম হয়ে ওঠা বিশ্বে বাড়ছে শরীরখেকো ছত্রাক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ২:২১ এএম 
গরমে বিশ্বে বাড়ছে শরীরখেকো ছত্রাক। ছবি : সংগৃহীত
শরীরের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে খেয়ে ফেলার মতো প্রাণঘাতী ছত্রাকের সংক্রমণ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। আর বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ভবিষ্যতে এই বিপদ আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিন রেমেইস ১০ কোটিরও বেশি রোগীর ওপর পরিচালিত বড় গবেষণায় দেখিয়েছেন, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে শুধু অ্যাসপারজিলোসিস নামক ছত্রাকজনিত রোগের ২০ হাজারেরও বেশি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। প্রতি বছর এই রোগের সংক্রমণ প্রায় ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে।

সিএনএনের এক প্রতিবেদন বলছে, ছত্রাক প্রজাতিটি পৃথিবীর প্রায় সব উপাদানেই বিদ্যমান। মাটি, পচনশীল পদার্থ, পানি এমনকি বাতাসেও মেলে ছত্রাক। এগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও মানবদেহে প্রবেশ করলে তা হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ছত্রাকজনিত রোগে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। প্রকৃত তথ্যের অভাবে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

তবে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের মতো ছত্রাক নিয়ে এখনও পর্যাপ্ত গবেষণা বা প্রস্তুতি নেই। বিশেষ করে উষ্ণ জলবায়ুতে এগুলো কীভাবে বেঁচে থাকে ও রোগ ছড়ায়, তা সম্পর্কে জানার পরিধি খুবই সীমিত। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অ্যাসপারজিলাস নামক সাধারণ ছত্রাকটি নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। এই ছত্রাকের অতি সূক্ষ্ম বীজাণু বাতাসের সঙ্গে ভেসে বেড়ায় এবং প্রতিদিন মানুষের শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে।

সুস্থ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাধারণত এই বীজাণুকে প্রতিরোধ করে। কিন্তু যাদের ফুসফুসের সমস্যা আছে, ক্যানসার বা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের রোগী, বা কোভিডের মতো সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। গবেষণার সহ- লেখক নর্মান ভ্যান রেইন বলেন, যদি শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়, তবে ছত্রাক ভেতরে বেড়ে উঠতে শুরু করে। সহজ ভাষায় বললে, শরীরকে ভেতর থেকে খেতে শুরু করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ছত্রাকের বিস্তারের মাত্রা ও গতি উভয়ই বাড়ছে। গবেষণা অনুযায়ী, গরম আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠা অ্যাসপারজিলাস ফ্ল্যাভাস প্রজাতিটি ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি উত্তর আমেরিকা, উত্তর চীন ও রাশিয়ার নতুন অঞ্চলগুলোতে প্রবেশ করবে। এটি শুধু মানুষের শরীরে নয়, শস্যেও আক্রমণ করে খাদ্য নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলে।

অন্যদিকে তুলনামূলক ঠান্ডা অঞ্চলে বাস করা অ্যাসপারজিলাস ফিউমিগেটাস প্রজাতিটি উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মেরুর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এর বিস্তার ৭৭.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং ইউরোপের প্রায় ৯০ লাখ মানুষকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা বাড়ার ফলে ছত্রাকগুলো উচ্চ তাপ সহ্য করার ক্ষমতাও অর্জন করছে। ফলে মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রায়ও এগুলো সহজে বেঁচে থাকতে ও সংক্রমণ তৈরি করতে পারছে। খরা, বন্যা বা তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগও ছত্রাকের বীজাণুকে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।


চিকিৎসা ও সচেতনতার ঘাটতির কারণে, অ্যাসপারজিলোসিসের মতো রোগের মৃত্যুহার ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। এর প্রধান সমস্যা হলো, শনাক্ত করা খুবই কঠিন। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো সাধারণ লক্ষণ দেখা যায়, যা অন্য রোগের সঙ্গে মিলে যায়। 

এর চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ছত্রাকনাশক মাত্র চার ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়। আর দিন দিন ছত্রাকগুলো এসব ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞ ইলেইন বিগনেল সতর্ক করে বলেন, মানুষ ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া নিয়ে সচেতন, কিন্তু ছত্রাক সম্পর্কে প্রায় অজানা। অথচ ভবিষ্যতে যেকেউ এর শিকার হতে পারে।

যদিও জনপ্রিয় সিরিজ ‘দ্য লাস্ট অব আস’-এর মতো ছত্রাক মানুষকে দানবে পরিণত করবে এমন কল্পকাহিনি বাস্তব নয়, তবে বাস্তবের বিপদও কম ভয়াবহ নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বিপদ মোকাবিলায় এখনই গবেষণা বাড়ানো, ওষুধ আবিষ্কার এবং জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরি। অন্যথায় গরম হয়ে ওঠা পৃথিবীতে এই শরীরখেকো ছত্রাক আরও বড় সংকট তৈরি করবে।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   গরম  বিশ্ব  শরীরখেকো  ছত্রাক  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: