বিশ্বকাপে গোল করার ধারাবাহিকতায় নতুন এক মাইলফলক গড়েছিলেন লিওনেল মেসি। তবে সেই রেকর্ডে একক মালিকানা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারলেন না আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মাত্র এক দিন পরই ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেও একই কীর্তিতে নিজের নাম লিখিয়েছেন।
শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে একমাত্র গোলটি করেন এমবাপ্পে। সেই গোলে ফ্রান্স ১-০ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। একই সঙ্গে চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৭, যা তাকে ইতিহাসের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে দুই ভিন্ন বিশ্বকাপে অন্তত সাতটি করে গোল করার কীর্তি এনে দিয়েছে।
এর আগে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের সপ্তম গোল করেন মেসি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও তিনি করেছিলেন ৭ গোল। ফলে পুরুষদের বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুই আসরে ৭ বা তার বেশি গোলের নজির গড়েন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তবে সেই রেকর্ডে দ্রুতই সঙ্গী হয়ে গেলেন এমবাপ্পে।
ফরাসি ফরোয়ার্ডের বিশ্বকাপে গোল করার ধারাবাহিকতা অবশ্য আগেই আলোচনায় ছিল। ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিকসহ মোট ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন তিনি। এবারও দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখে নকআউট পর্বেই ৭ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি অবশ্য ফ্রান্সের জন্য সহজ ছিল না। ফিলাডেলফিয়ার তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয় দিদিয়ে দেশমের শিষ্যরা। শেষ পর্যন্ত দেশিরে দুয়ের আদায় করা পেনাল্টি থেকে এমবাপ্পের ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে।
২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসি ও এমবাপ্পের রুদ্ধশ্বাস দ্বৈরথ ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখনও তাজা। চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে গোলের লড়াইয়ে পাশাপাশি অবস্থান করছেন দুই সুপারস্টার। চলতি আসরে দুজনেরই গোলসংখ্যা এখন ৭।
বিশ্বকাপ ইতিহাসেও দুজনের পরিসংখ্যান ক্রমেই সমৃদ্ধ হচ্ছে। মেসির মোট গোলসংখ্যা এখন ২০, আর এমবাপ্পেও দ্রুত সেই উচ্চতায় পৌঁছানোর পথে। বয়স, অভিজ্ঞতা ও দলের পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও বড় মঞ্চে গোল করার ক্ষমতায় দুজনই নিজেদের আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
এ অবস্থায় গোল্ডেন বুটের দৌড়ও নতুন মাত্রা পেয়েছে। সমান ৭ গোল নিয়ে মেসি ও এমবাপ্পে শীর্ষ লড়াইয়ে থাকায় বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোলযুদ্ধও হতে যাচ্ছে অন্যতম বড় আকর্ষণ।
সময়ের আলো/এসএকে