জুলাই জাদুঘর থেকে ফেলানীর স্মৃতিস্তম্ভ সরানোর ব্যাখ্যা দিলেন ডিজি

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে শহীদ ফেলানী খাতুনের স্মৃতিস্তম্ভ সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

2026-07-06T01:10:50+00:00
2026-07-06T01:10:50+00:00
 
  সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬,
২২ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
জুলাই জাদুঘর থেকে ফেলানীর স্মৃতিস্তম্ভ সরানোর ব্যাখ্যা দিলেন ডিজি
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১:১০ এএম 
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। ছবি : সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে শহীদ ফেলানী খাতুনের স্মৃতিস্তম্ভ সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব জানান, স্মৃতিস্তম্ভটি সরানো হয়নি, পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এটি বর্তমানে স্টোরে রাখা হয়েছে। ঢাকা স্ট্রিমের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

তিনি জানান, আগামী ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। এর আগে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে। উচ্চপর্যায়ের এই পর্ষদই চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেবে জাদুঘরে কোন কোন কন্টেন্ট প্রদর্শিত হবে এবং কোনগুলো থাকবে না।

তানজিম ইবনে ওয়াহাব বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের কোনো কন্টেন্ট এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শুধু ফেলানী নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অসংখ্য কন্টেন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে কোনগুলো স্থায়ীভাবে প্রদর্শিত হবে, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সামাজিক মাধ্যমে চলমান আলোচনাকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ছাড়া গুজব ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকা উচিত। তাঁর ভাষ্য, জাদুঘরে কোনো কিছু গোপন রাখার সুযোগ নেই, কারণ এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং মানুষ সরাসরি এসে সবকিছু দেখতে পারবেন।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে দাবি ওঠে, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে শহীদ ফেলানীর স্মৃতিস্তম্ভ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার সাংবাদিক ও লেখক মাসকাওয়াথ আহসানের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যে লেখেন, ফেলানীর স্মৃতিস্তম্ভ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। একই ধরনের মন্তব্য করেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপসচিব সুকর্ণ আহমেদ। তিনি জানান, গত ২৮ মার্চ জাদুঘর পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সেখানে ফেলানীর স্মৃতিস্তম্ভ দেখতে পাননি।

এদিকে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) এর মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর জনসাধারণের জন্য খুলে দিতে হবে। অন্যথায় জনগণ নিজেরাই জাদুঘর উন্মুক্ত করবে।


জাতীয় জাদুঘরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুলাই জাদুঘরে কী কী কন্টেন্ট প্রদর্শিত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের পর বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে। তবে আগামী ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে সাংবাদিকদের জন্য জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে তানজিম ইবনে ওয়াহাব বলেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে গণমাধ্যমকর্মীদের জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাবার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তাঁর মরদেহ কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকার ছবি দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

নুরুল ইসলাম ও জাহানারা বেগম দম্পতির আট সন্তানের মধ্যে বড় ছিলেন ফেলানী। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া ফেলানী পরিবারের সঙ্গে ভারতে বসবাস করতেন। বিয়ের উদ্দেশ্যে দেশে ফেরার পথেই সীমান্তে প্রাণ হারান তিনি। পরে তিনি সীমান্ত হত্যার প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতন ঘটে। এরপর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা সরকারি বাসভবন গণভবন ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গণভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। একাধিকবার উদ্বোধনের ঘোষণা এলেও জাদুঘরটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাদুঘর পরিদর্শন করে দ্রুত চালুর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। পরে তাঁর সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট উদ্বোধনের ঘোষণা দিলেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।

বর্তমানে জাতীয় জাদুঘরের ১৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী অতিরিক্ত দায়িত্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে কর্মরত রয়েছেন। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থায়ী নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   জুলাই  জাদুঘর  ফেলানী  স্মৃতিস্তম্ভ  ব্যাখ্যা  ডিজি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: