দল গোছাচ্ছে বিএনপি

রফিক রাফি

জাতীয়

সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর এবার দল গোছানোর কাজে মনোযোগ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ

2026-07-06T04:28:48+00:00
2026-07-06T04:30:33+00:00
 
  সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬,
২২ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
দল গোছাচ্ছে বিএনপি
রফিক রাফি
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৮ এএম  আপডেট: ০৬.০৭.২০২৬ ৪:৩০ এএম
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর এবার দল গোছানোর কাজে মনোযোগ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন, কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন এবং সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে দলকে সক্রিয় করতে নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তিনি। 

এরই অংশ হিসেবে শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৃথকভাবে ঢাকা জেলা বিএনপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। 

এদিন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা থাকলেও তা বাতিল করা হয়। বৈঠকে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে কয়েকটি সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণার ইঙ্গিত দেন বিএনপি হাইকমান্ড।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন, সংগঠন পুনর্গঠন করে গতিশীল করা এবং দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল আয়োজনের লক্ষ্য সামনে রেখে পর্যায়ক্রমে দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে দলের চেয়ারপারসন ধারাবাহিক এই বৈঠক করছেন।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি এবং বাকি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গেও শিগগিরই বৈঠক করবেন তারেক রহমান। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।


বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্যের ভাষ্য, সরকার পরিচালনার ব্যস্ততার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে আছে। ফলে নেতাকর্মীরাও নিজ নিজ ব্যবসা-বাণিজ্যে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়েছেন। তাই আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এই স্থবিরতা কাটিয়ে সংগঠনকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করাই এখন তারেক রহমানের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে দল ও সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাত যতদূর সম্ভব মিটমাট করে কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতে চান তিনি।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা মনে করছেন, এই ধারাবাহিক বৈঠক ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠনে নতুন গতি আসবে এবং দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা সাংগঠনিক প্রক্রিয়াগুলোও শেষ করার সুযোগ তৈরি হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকগুলোতে সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দলীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা চান তিনি। বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা নিজ নিজ ইউনিটের সাংগঠনিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং দলকে আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। বিএনপি চেয়ারম্যান এসব প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমান শুরুতে ঢাকা জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে জেলার সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায়ের নেতৃত্বে নেতারা অংশ নেন। 

যদিও নিপুণ রায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জানা গেছে, এরপর দলের অঙ্গ-সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ ৩ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। সেখানে সংগঠনটি সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহমদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসিন আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান অংশ নেন। বৈঠকে তারেক রহমান নেতাদের কাছে সংগঠনের সাংগঠনিক অবস্থা ও সারা দেশে কমিটির বিষয়ে জানতে চান। একই সঙ্গে সংঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে নতুন কমিটির দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা বলেন, ‘এখানে লুকোচুরি করার তো কিছু নেই, আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এ ছাড়া সংগঠনের সভাপতি এস এম জিলানী বর্তমানে সংসদ সদস্য আর সাধারণ সম্পাদক প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে অনেক জেলায় কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি। এখন নতুন কমিটি হওয়াই স্বাভাবিক।’

এই নেতা আরও বলেন, তবে নতুন কমিটি কবে হবে তার সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ কথা উল্লেখ করেননি প্রধানমন্ত্রী। ধারণা করা যায়, আগামী ৫ আগস্টের আগেই নতুন কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মেয়াদোত্তীর্ণ সংগঠনের জেলা কমিটিগুলো দ্রুত কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছে। সঙ্গে এটাও সতর্ক করেছেন যে, কমিটি গঠন নিয়ে যেন কোনো বিতর্কের জন্ম না হয়।

২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি ও রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। 

সূত্রে আরও জানা গেছে, সর্বশেষ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় আধা ঘণ্টার এই বৈঠকে তিনি সংগঠনের বর্তমান অবস্থা, নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা, থানা-ওয়ার্ড কমিটির মেয়াদ এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে উপস্থিত নেতারা সময়ের আলোকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন, এখন থেকে সংগঠনের জন্য নিয়মিত সময় দেবেন। দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করে একটি কার্যকর অবস্থানে নিয়ে যেতে চান তিনি।’

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেক কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব কমিটি পুনর্গঠন করতে হবে। যেসব থানা-ওয়ার্ড কমিটি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল, সেগুলোকে গতিশীল করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে কমিটি হলেও আগামীতে কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের সব পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, কাউন্সিলভিত্তিক নেতৃত্ব নির্বাচন নিশ্চিত হলে সংগঠন আরো গণতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য হবে।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল আলম মজনু সময়ের আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের খোঁজ নিয়েছেন। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়িয়ে দলকে শক্তিশালী করার নির্দেশনাও দিয়েছেন।


দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী আগস্ট মাস থেকে পর্যায়ক্রমে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনের কাজ শুরু হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একটি সূত্র বলছেন, দলের জেলা-মহানগর ও অঙ্গ-সংগঠনের পুনর্গঠনের কাজ শেষ হলেও কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করা হবে। চলতি বছর না হলেও আগামী বছরের শুরুর দিকে দলের কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলমান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যা কিছু হবে কাউন্সিলের মাধ্যমেই হবে।’ 

প্রসঙ্গত সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তিন বছর মেয়াদী এই কমিটি ১০ বছর ধরে চলছে। এই দীর্ঘ সময়ে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটি একাধিকবার পুনর্গঠন করা হয়েছে। সর্বশেষ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   দল  বিএনপি  সরকার  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: