মেহেরপুরে জিয়ালা গাছের ফল খেয়ে অন্তত ১৪ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত পেটে ব্যথা ও বমি হওয়ায় ৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খেলতে গিয়ে কাঠ বাদাম ভেবে এই ফল খেয়ে একে এক অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুরা। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে তারা সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
রোববার (৫ জুলাই) ঘটনাটি ঘটেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সহড়াবাড়ীয়া গ্রামে।
জানা গেছে, প্রতিদিনের ন্যায় রোববার বিকেলে গ্রামের শিশুরা খেলতে যায়। এক পর্যায়ে সড়কের পাশে থাকা একটি গাছের ফল খেতে থাকে শিশুরা। জিয়ালা গাছের ফল কাঠ বাদাম মনে করে বেশ কয়েকটি করে খায় তারা।
তাৎক্ষণিকভাবে ফলের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। খেলা শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে শুরু হয় পেটে ব্যথা। একইসাথে বমি করতে থাকে কয়েকজন। বিষয়টি টের পেয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় অভিভাবকরা।
অসুস্থ শিশুরা জানায়, গাছের সুন্দর পাকা ফল দেখে আমরা ছিঁড়ে খাই। বেশ ভালো লাগছিলো। খেলাধুলা শেষে বাড়ি ফিরে আসি, তারপর থেকে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। কিন্তু জানতাম না এই ফল খেলে এমন হবে।
অসুস্থ শিশুদের মধ্যে মোস্তাকিন (১২), কাফি (১২), আমেনা খাতুন (৩), হালিমা (৯), রক্তিমা (১১), রিয়াদ (১১), ফেরদৌস (১০) ফুয়াদ (১২) এবং মোস্তাকিম (৯) কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিভাবকরা জানান, জিয়ালা গাছের ফল কেউ কখনও খায় না। এই ফল খেলে মানুষের ক্ষতি হয় এমনটি জানা ছিল না অসুস্থ শিশু ও তাদের পরিবারের লোকজনের।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. উমর ফারুক জানান, বিদেশি গাছ বার্বাডোজ নাট স্থানীয়ভাবে জিয়ালা কচা নামে পরিচিত। এর ফল ও পাতা খেলে পেটে ব্যথা, বমি এবং মারাত্মক ডায়রিয়া হতে পারে। শিশুদেরকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা আশংকা মুক্ত রয়েছে।
সময়ের আলো/আআ