জুলাইয়ের শহিদ ও শিশুদের নৃশংসভাবে হত্যাকে হেয় প্রতিপন্ন ও ব্যঙ্গ করার অভিযোগে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জিনাত জোয়ার্দার রিপাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) বিইউবিটির রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এই বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, বিইউবিটি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুসারে, বিইউবিটি কর্মচারী আচরণবিধি/শৃঙ্খলা বিধি, বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার (যে কোনো রূপে) প্রতি শূন্য সহনশীলতা নীতি লঙ্ঘন এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে অপমান করার দায়ে, আপনাকে এতদ্বারা ৫ জুলাই থেকে বিইউবিটির চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হল। এই বরখাস্তের আদেশ তদন্ত সম্পন্ন হওয়া, শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ এবং বিইউবিটি সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন সময়ে, আপনাকে বিইউবিটি ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে, আপনাকে অবিলম্বে সমস্ত দাপ্তরিক নথি, চাবি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য যে কোনো সম্পত্তি রেজিস্ট্রার অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও শিশুদের নৃশংসভাবে হত্যাকে হেয় প্রতিপন্ন ও ব্যঙ্গ করার অভিযোগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা জিনাত জোয়ার্দার রিপার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে মিরপুরের রুপনগরে বিইউবিটির প্রধান ফটকের সামনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক জিনাত জোর্য়াদার রিপা তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জুলাই-আগস্টে শিশুদের ওপর হেলিকপটার যোগে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তিনি আওয়ামী লীগের দোসর ও সেই মতাদর্শ ধারণ করেন। জুলাই বিপ্লবে বুকে বুলেট নিয়ে আমাদের যে ভাইয়েরা নতুন বাংলাদেশ উপহার দিলেন, সেই বীর শহিদদের ত্যাগ নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না।
তারা বলেন, শহিদ সুজন মাহমুদ এবং শহিদ তাহমিদ আব্দুল্লাহ আমাদের বিইউবিটির অহংকার। নিজেদের জীবন দিয়ে তারা আমাদের ক্যাম্পাস ও মিরপুরকে সম্মানিত করেছেন। অথচ এই ক্যাম্পাসেরই একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা শহিদদের রক্ত নিয়ে উপহাস করার দুঃসাহস দেখালেন। যাদের মনে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, তাদের মতো মানুষের কোনো পবিত্র শিক্ষাঙ্গণে থাকার অধিকার নেই।
এ ব্যাপারে জানতে বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা জিনাত বলেন, আমি ছুটিতে আছি। কারা কী করছে; আমি এ ব্যাপারে অবগত নই।
সময়ের আলো/আআ