বর্ণিল আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

শিক্ষা

'শিক্ষা-গবেষণা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে গৌরবের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

2026-07-06T17:02:15+00:00
2026-07-06T17:05:38+00:00
 
  সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬,
২২ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
শিক্ষা
বর্ণিল আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৫:০২ পিএম  আপডেট: ০৬.০৭.২০২৬ ৫:০৫ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন। ছবি : সময়ের আলো
'শিক্ষা-গবেষণা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে গৌরবের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকেই দিবসটি উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল ১০টায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন হল ও বিভাগের সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শোভাযাত্রাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বর সংলগ্ন প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণে সমবেত হন। এরপর সকাল ১০টা ৫ মিনিটে আমন্ত্রিত অতিথিরা জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণিল শোভাযাত্রা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণিল শোভাযাত্রা।


পরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন এবং বেলুন ও পায়রা অবমুক্ত করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্যদ্বয়, রাসিক মেয়র এবং বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় এবং সিনেট ভবন চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মো. রফিকুল ইসলাম প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক আন্দোলনে রাবির অবদান, ত্যাগ ও অর্জনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সফলতাও তুলে ধরেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে অনেকে বিশ্বব্যাপী সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ অবদান রাখা মরহুম মাদার বখশের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।’

সিনেট ভবনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা।

সিনেট ভবনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা।


তিনি আরও বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয় আমার কাছে অনেক কিছু দাবি করেছেন। আমি সবসময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভাকাঙ্ক্ষী। আমাদের সকলের প্রিয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক কিছু দিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে খুবই আন্তরিক। আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, একাডেমিক ভবনসহ সব সংকট অতিদ্রুত নিরসন হবে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব বিষয় খুব শিগগিরই উপস্থাপন করব। আমি আমার বাবা ফয়েজ রহমানের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য এক সপ্তাহের মধ্যেই ১০ লাখ টাকা দেব।’

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘দুই বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানাব। আশা করি, তিনি উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও, উপাচার্য মহোদয় বড়কুঠি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে বলেছেন। আশা করছি, খুব শিগগিরই বড়কুঠি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’


সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে যারা অবদান রেখেছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুপ্রেরণার প্রতীক জোহা স্যারের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই। এ বিশ্ববিদ্যালয় আমার পরিবারের মতো। আমরা কিছু নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। আশা করি, সামনের দিনে বিশ্বের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও ভালোভাবে তুলে ধরতে পারব।’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন আলোকসজ্জা করা হয়নি, এ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ‘সরকার কর্তৃক জ্বালানি সংকটের কারণে আলোকসজ্জা না করার নির্দেশনা রয়েছে। তাই আমরা অতিরিক্ত টাকা খরচ করিনি।’

উপস্থিত ভূমিমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মস্থান বড়কুঠি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে চলে গেছে। মন্ত্রী মহোদয়কে বলব, যেভাবেই হোক এটি যেন আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফাইসুল ইসলাম ফারুকী, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, রাজশাহী-৩ আসনের সাংসদ মো. শফিকুল হক মিলন, রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

এছাড়াও বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামে খেলাধুলার আয়োজন এবং সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   বর্ণিল আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন 


Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: