অকেজো হয়ে পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, সিরাজগঞ্জে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা
রানা আহমেদ
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৬ পিএম
সিরাজগঞ্জ শহর। ছবি : সময়ের আলো
অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও শনাক্তের জন্য পুরো সিরাজগঞ্জ শহরকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনা হলেও, নিয়মিত তদারকি আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে সবগুলো ক্যামেরা। যার কারণে সিরাজগঞ্জ শহরে বেড়েছে অপরাধ প্রবণতা। ঘটছে মারামারি, চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ নানা ঘটনা। ফলে, পুরো শহরকে আবারও সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি পৌরবাসীর।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যমুনা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা একটি ব্যস্ততম বাণিজ্যিক শহর সিরাজগঞ্জ। জেলা সদর হওয়ায় প্রতিদিনই নানা প্রয়োজনে উপজেলা এবং গ্রাম থেকে শহরে আসে শত শত মানুষ। পাশাপাশি শহরেও বসবাস করে প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ। শহরে বসবাসরত সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও শনাক্তের জন্য ২০২১ সালে পুরো শহরকে উচ্চ রেজুলেশন সম্পন্ন ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনে জেলা পুলিশ। শহরের ৬৫ টি পয়েন্টে ১০০ টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়, যা পর্যবেক্ষণ করা হতো পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মনিটরিং সেল থেকে। তবে, ক্যামেরা স্থাপনের ৩ থেকে ৪ বছরেই বিকল ও খোয়া গেছে প্রায় সবগুলো ক্যামেরা, যা সিরাজগঞ্জ শহরকে অনিরাপদ করে তুলছে।
প্রতিনিয়ত ইভটিজিংয়ের পাশপাশি পাড়া মহল্লায়, বসতবাড়িতে ঘটছে ছোট-বড় চুরি, ছিনতাইসহ নানা ঘটনা। ব্যক্তিগত সিসি ক্যামেরায় কিছু অপরাধ শনাক্ত হলেও অধিকাংশ অপরাধীই থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। শহরবাসী বলছে, ক্যামেরা সচল না থাকায় সেই সুযোগ নিচ্ছে অপরাধী চক্র।
সিসিটিভি ক্যামেরা উধাও।
শহরের দরগা রোড এলাকার বাসিন্দা হাসান তালুকদার বলেন, ‘বর্তমানে শহরের বেশির ভাগ সরকারি ক্যামেরা অকেজো। এদিকে ছোট-বড় চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়েছে। ফলে, আমরা সাধারণ মানুষ সবসময় আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করি।’
কথা হয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তারা জানান, সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাড়ছে চুরি ডাকাতি। শনাক্ত হওয়ার ভয় কমে যাওয়ায় অপরাধের প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে দুষ্কৃতিকারীদের মাঝে। শহরবাসীর মতো শঙ্কিত তারাও। ফলে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সিসি ক্যামেরা পুনঃস্থাপনসহ শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি তাদের।
শহরের মুড়িপট্টি এলাকার পাইকারি মোদি দোকান ব্যবসায়ী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘সিসি ক্যামেরাগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় শহরে চুরি-ছিনতাই বেড়েছে। ক্যামেরা থাকলে পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পারত। আমার দোকানের পাশে একটি এটিএম বুথ রয়েছে। এখান থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় মাঝেমধ্যে অনেকেই ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন। শুধু তাই নয়, শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেলও চুরি হয়ে যায়।’
নতুন করে সিসিটিভি ক্যামেরা প্রতিস্থাপনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘জেলা পুলিশের পাশাপাশি পৌরসভারও উচিত শহরটাকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা। এতে প্রয়োজনে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আমরাও সার্বিক সহযোগিতা করব।’
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ‘ইতোমধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা পুনঃস্থাপনের জন্য আমরা কাজ শুরু করেছি। এ বিষয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। তারা বাজেট দিলেই আমরা কাজ শুরু করতে পারব। এবার শহরের ১১৮টি পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা দেওয়া হবে।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) ও সিরাজগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা শাহাদাত হুসেইন বলেন, ‘শহরে সিসিটিভি ক্যামেরা পুনঃস্থাপনের জন্য জেলা পুলিশের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তবে, পৌরসভা থেকে সবগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার বাজেট দেওয়া সম্ভব হবে না। আলোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গায় খুব দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে।’