বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচনে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা রোজিনা। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনে তাকে ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত অসম্মানিত করা হয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রোজিনা বলেন, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত জয় চৌধুরী বারবার অনুরোধ করে তাকে নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি করান এবং সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার আশ্বাস দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি।
রোজিনা বলেন, ‘আমাকে ট্রাম্প কার্ড বানিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করা হয়েছে। আমাকে পাস করাবে না, সেই সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল। আমাকে হারানো হয়েছে, আমি হারিনি।’
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ভোট কেনাবেচা, কারচুপি ও ব্যালট নষ্ট করার ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, জয় চৌধুরীর প্যানেলের অনেক ভোটও তাকে দেওয়া হয়নি।
রোজিনা বলেন, ‘জয়কে বারবার বলেছিলাম, আমার যেন সম্মানহানি না হয়। সে আশ্বস্ত করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। একজন জুনিয়র সহকর্মীর কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে একাধিকবার শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিয়ে দায়িত্ব পালন করলেও কখনও পরাজিত হননি। সর্বশেষ নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে জয় চৌধুরীর অনুরোধেই আবার নির্বাচনে অংশ নেন।’
নির্বাচনে পরাজিত আরেক প্রার্থী পলির প্রসঙ্গ টেনে রোজিনা বলেন, পলি মাঠপর্যায়ে অনেক কাজ করলেও তাকেও হারানো হয়েছে। তার অভিযোগ, নির্বাচনে টাকার প্রভাব ছিল এবং অধিকাংশ শিল্পী অর্থের বিনিময়ে ভোট দিয়েছেন।
চলচ্চিত্র অঙ্গনের বর্তমান পরিবেশ নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘এফডিসিতে এখন আর সিনিয়র শিল্পীদের সম্মান নেই। আমাকে যেভাবে অসম্মান করা হয়েছে, এরপর আর কখনও শিল্পী সমিতিতে যাব না।’
আবেগঘন বক্তব্যে রোজিনা বলেন, ‘আমি আজ বলে যাচ্ছি, মৃত্যুর পর আমার লাশ যেন এফডিসিতে না নেওয়া হয়। যে জায়গাকে নিজের ঘর মনে করতাম, সেখানে এখন শুধু নোংরা রাজনীতি।’
তবে রোজিনার অভিযোগের বিষয়ে শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী বা নির্বাচন-সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/কেএইচও