নেত্রকোনায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ মামলার চূড়ান্ত রায়ে হেলাল নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া কন্যা সন্তানকে আসামির পিতৃপরিচয় প্রদানের পাশাপাশি ধর্ষকের সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এই রায় ঘোষণা করেন।
নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. নুরুল কবীর (রুবেল) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জেলার বারহাট্টা এলাকার এই ধর্ষণ মামলার রায়ে বিজ্ঞ আদালত আসামি হেলালকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার বিবরণ ও পিপি নুরুল কবীর সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী খুববানু ছিলেন একজন স্বামী পরিত্যক্তা এবং সহজ-সরল ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী প্রকৃতির নারী। আসামি হেলাল প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী গর্ভবতী হয়ে পড়লে গর্ভাবস্থার ছয় মাস বয়সে বারহাট্টা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর খুববানু একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন এবং পরবর্তীতে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।
মায়ের মৃত্যুর পর শিশুটি (বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী) সম্পূর্ণ পিতৃপরিচয়হীন হয়ে পড়ে। মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন পুলিশের চার্জশিট এবং আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় শিশুটির ডিএনএ টেস্ট করানো হয়। বৈজ্ঞানিক এই পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে শিশুটি আসামি হেলালেরই ঔরসজাত সন্তান।
তবে ডিএনএ টেস্টে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও আসামি হেলাল বিষয়টি টানা অস্বীকার করে আসছিল। আজ আদালত সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও ডিএনএ রিপোর্ট বিবেচনা করে শিশুটিকে হেলালের সম্পত্তির সঠিক ও আইনি উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করেন।
এদিকে আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। মামলার বাদী ও প্রয়াত খুববানুর বোন জানান, “বিগত দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আমরা এই মামলা নিয়ে আদালতের বারান্দায় ঘোরাঘুরি করেছি। অনেক কষ্ট ও লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়েছে। অবশেষে ১৩ বছর পর বিজ্ঞ আদালতের রায়ে আমরা কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পেয়েছি। আমার বোনের আত্মা শান্তি পাবে এবং তার মেয়ে নিজের অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারবে।”
সময়ের আলো/জেডি