আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের নাটকীয় বিশ্বকাপ ম্যাচটি মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজনৈতিক বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে কয়েকজন আর্জেন্টাইন সমর্থককে ইসরায়েলের পতাকা ওড়াতে দেখা যায়, যা মিশরীয় সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আটলান্টা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠে। ম্যাচের শেষ দিকে দুই গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
১৪তম মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। এরপর ২০তম মিনিটে গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইর লিওনেল মেসির নেওয়া পেনাল্টি রুখে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তাফা জিকো আরেকটি গোল করেছিলেন বলে মনে হলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর সেটি বাতিল করা হয়। পরে ৬৬তম মিনিটে জিকো বৈধভাবে মিশরের দ্বিতীয় গোলটি করেন, ফলে শিরোপাধারীদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক অঘটন ঘটানোর পথে এগিয়ে যায় ফারাওরা।
কিন্তু শেষ দিকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। ৭৯তম মিনিটে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমান, চার মিনিট পর সমতা ফেরান লিওনেল মেসি, আর যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার-ফাইনালে তুলে দেন।
শেষ বাঁশির পর আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উদ্যাপনের সময় টেলিভিশন ক্যামেরায় গ্যালারিতে একজন সমর্থককে ইসরায়েলের পতাকা ওড়াতে দেখা যায়। ম্যাচ-পরবর্তী ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে সেই দৃশ্য ধরা পড়ে।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের বাইরে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এবং রেফারিং নিয়ে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ মিশরীয় সমর্থকদের মধ্যে এটি আরও ক্ষোভ উসকে দেয়।
সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি আসে মিশরীয় ইউটিউব চ্যানেল আল ওয়াই নূর থেকে। তাদের প্রকাশিত একটি ভিডিওর শিরোনাম ছিল : মিশর হেরেছে জায়নবাদ, রেফারি, ফিফা ও আর্জেন্টিনার কাছে : এক সম্পূর্ণ বিশ্বকাপ কেলেঙ্কারি।
ভিডিওতে উপস্থাপক অভিযোগ করেন, রেফারি মিশরকে প্রাপ্য জয় থেকে বঞ্চিত করেছেন। তার দাবি, ম্যাচটি ছিল ফিফার জন্য একটি ‘সম্পূর্ণ বিপর্যয়’ এবং মিশর শুধু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নয়, বরং ‘পুরো ব্যবস্থার’ বিপক্ষে খেলেছে।
তিনি বলেন, মিশরের ৩-০ ব্যবধানে জেতা উচিত ছিল এবং অভিযোগ করেন, মোহাম্মদ সালাহকে ঘিরে শেষ দিকে হওয়া একটি পেনাল্টির আবেদন কর্মকর্তারা উপেক্ষা করেন, যার পরপরই আর্জেন্টিনা পাল্টা আক্রমণে গিয়ে জয়সূচক গোল করে।
উপস্থাপক এই ফলাফলকে রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত করেন। তার দাবি, বিশ্বমঞ্চে কোচ হোসাম হাসান ফিলিস্তিনের পতাকা উঁচিয়ে ধরেছিলেন এবং ফিলিস্তিনি ইস্যুতে কথা বলেছিলেন বলেই মিশরের সাফল্য ‘কাঙ্ক্ষিত ছিল না’। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করতে থাকা অবস্থায় মিশরের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠা ‘কেউ চাইছিল না’।
তিনি আরও দাবি করেন, আর্জেন্টিনা ‘পুরোপুরি অর্থেই একটি ইসরায়েলপন্থী দল’। এ প্রসঙ্গে তিনি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং অতীতে লিওনেল মেসির ইসরায়েল সফরের কথা উল্লেখ করেন।
ইউটিউবারের দাবি, মেসি পশ্চিম প্রাচীর পরিদর্শন করেছেন, কিপ্পাহ পরেছেন এবং নেতানিয়াহু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এসব বিষয়কে তিনি আর্জেন্টিনার সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ