রক্তে যাদের ফরাসি সংস্কৃতির ছাপ, তারাই আজ ফরাসিদের হারাতে মরিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

১৯১২ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত মরক্কো ছিল ফ্রান্সের আশ্রিত রাজ্য (ফরাসি প্রটেক্টরেট)। প্রায় ৪৪ বছরের সেই শাসন শুধু রাজনৈতিক ইতিহাসেই

2026-07-09T01:33:18+00:00
2026-07-09T01:33:18+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬,
২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
খেলা
রক্তে যাদের ফরাসি সংস্কৃতির ছাপ, তারাই আজ ফরাসিদের হারাতে মরিয়া
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৩ এএম 
ফ্রান্স বনাম মরক্কো : ৯০ মিনিটের ফুটবলে ৪৪ বছরের ইতিহাসের লড়াই। ছবি : সংগৃহীত
১৯১২ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত মরক্কো ছিল ফ্রান্সের আশ্রিত রাজ্য (ফরাসি প্রটেক্টরেট)। প্রায় ৪৪ বছরের সেই শাসন শুধু রাজনৈতিক ইতিহাসেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং মরক্কোর সমাজ, শিক্ষা, প্রশাসন ও ভাষায়ও ফরাসি সংস্কৃতির গভীর ছাপ রেখে গেছে। স্বাধীনতার সাত দশক পরও মরক্কোতে ফরাসি ভাষা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, দেশটিতে অসংখ্য ফরাসি প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করে। আফ্রিকায় ফ্রান্সের অন্যতম বড় বিনিয়োগ গন্তব্যও মরক্কো। দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানা ক্ষেত্রে কৌশলগত অংশীদারত্ব রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সেই সম্পর্ক ৯০ মিনিটের জন্য ভুলে যাবে দুই দেশ। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়ে ইতিহাস, আবেগ ও প্রতিশোধের গল্পই হয়ে উঠবে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইতিহাস গড়া মরক্কোর স্বপ্ন থামিয়ে দিয়েছিল ফ্রান্স। আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের প্রথম দল হিসেবে শেষ চারে ওঠা আটলাস লায়ন্সদের ২-০ গোলে হারিয়ে সেবার ফাইনালে উঠেছিল লে ব্লুরা। চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। এবার অবশ্য সেমিফাইনাল নয়, ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল। তবে ম্যাচটির গুরুত্ব কোনো অংশেই কম নয়। জয়ী দল জায়গা করে নেবে শেষ চারে, যেখানে অপেক্ষায় থাকবে স্পেন অথবা বেলজিয়াম। বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টায় শুরু হবে এই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই।

শেষ ষোলো পর্যন্ত দুই দলই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। ফ্রান্স নকআউটে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়েছে। স্কোরলাইন ছোট হলেও পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ ও সুযোগ তৈরিতে আধিপত্য ছিল দিদিয়ের দেশমের দলের। অন্যদিকে মরক্কো স্বাগতিক কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে। এর আগে তারা টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল। ফলে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর অবস্থাতেই বোস্টনের কোয়ার্টার ফাইনালে নামছে দুই দল।

ম্যাচের আগে মরক্কো কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি জানিয়েছেন, তার দল ভয় নয়, আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামবে। তিনি বিশ্বাস করেন, নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে পারলে যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারানো সম্ভব। অন্যদিকে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমও প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছেন। তার মতে, ২০২২ সালের পর মরক্কো আরও পরিণত হয়েছে এবং তারা বিশ্বের যেকোনো দলের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ।


ইতিহাস অবশ্য ফ্রান্সের পক্ষেই কথা বলছে। দুই দলের আগের ছয় দেখায় চারবার জিতেছে ফ্রান্স, দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখনও ফ্রান্সকে হারানোর স্বাদ পায়নি মরক্কো। দুই দলের একমাত্র প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচও ছিল ২০২২ বিশ্বকাপের সেই স্মরণীয় সেমিফাইনাল, যেখানে থিও হার্নান্দেজ ও কলো মুয়ানির গোলে জয় পেয়েছিল ফরাসিরা। তবে সেই ম্যাচে মরক্কোর লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ তাদের সামনে।

ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের তারকাসমৃদ্ধ আক্রমণভাগ। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয়সূচক পেনাল্টি গোলসহ টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে সাত গোল করেছেন তিনি। তার সঙ্গে উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে, ব্র্যাডলি বারকোলা ও দেজিরে দুয়ের মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তবে ফ্রান্স শিবিরে কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ অরেলিয়েন চুয়ামেনির চোট। কুঁচকির সমস্যার কারণে শেষ ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। যদিও তার পরিবর্তে মানু কোনো ভালো খেলেছেন এবং দেশম চাইলে একই একাদশ ধরে রাখতে পারেন।

অন্যদিকে মরক্কোর সবচেয়ে বড় ধাক্কা ইসমাইল সাইবারির অনুপস্থিতি। শেষ ষোলোতে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় এই ম্যাচে তার খেলা অনিশ্চিত। চলতি বিশ্বকাপে তিন গোল করা এই মিডফিল্ডারের না থাকা মরক্কোর আক্রমণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আশরাফ হাকিমি, গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু, আজেদিন ওনাহি, ব্রাহিম দিয়াজ, ইউসুফ এন-নেসিরি ও আইয়ুব বুয়াদ্দিকে নিয়েই লড়াইয়ে নামবে আটলাস লায়ন্সরা। বিশেষ করে ব্রাহিম দিয়াজের দিকে আলাদা নজর থাকবে। 

কানাডার বিপক্ষে দুটি অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টেই তিনি দারুণ ছন্দে রয়েছেন। অন্যদিকে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি রক্ষণ ও আক্রমণ দুই বিভাগেই মরক্কোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র। এমবাপের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত দ্বৈরথও ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে।

এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন মরক্কো কি প্যারাগুয়ের পথ অনুসরণ করে ফ্রান্সকে আটকে রাখতে পারবে? শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ে কঠোর শারীরিক ফুটবল ও শক্ত রক্ষণে দীর্ঘ সময় ফরাসিদের গোলশূন্য রেখেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এমবাপের পেনাল্টি গোলে জয় পায় ফ্রান্স। মরক্কোও যদি একই পরিকল্পনা নেয়, তা হলে তাদের পুরো ম্যাচজুড়ে নিখুঁত রক্ষণ বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে হাতে গোনা যে সুযোগগুলো পাবে, সেগুলো কাজে লাগানোর বিকল্প থাকবে না।

সব দিক বিবেচনায় অভিজ্ঞতা, স্কোয়াডের গভীরতা ও আক্রমণভাগের শক্তিতে কিছুটা এগিয়ে ফ্রান্স। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের লড়াকু মানসিকতা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল দিয়ে মরক্কো বারবার প্রমাণ করেছে, তারা আর শুধু চমক দেখানো দল নয়; বড় মঞ্চে যেকোনো প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম একটি পরিণত শক্তি। তাই বোস্টনের এই কোয়ার্টার ফাইনাল শুধু শেষ চারের লড়াই নয়, বরং ঔপনিবেশিক ইতিহাস, ২০২২ সালের সেমিফাইনালের স্মৃতি এবং প্রতিশোধের আবেগে মোড়া আরেকটি মহারণ। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টায় শুরু হওয়া এই ম্যাচে জয়ী দল নিশ্চিত করবে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   ফ্রান্স বনাম মরক্কো  বিশ্বকাপ 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: