ঝালকাঠিতে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় কারাগারে থাকা যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন শামীমের জামিনের পক্ষে আদালতে হলফনামা দাখিল করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ২০ নেতা। তবে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।
গত ১ জুলাই ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন শুনানির সময় হলফনামাটি উপস্থাপন করা হয়। বিচারক মো. মতিয়ার রহমান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এ সময় আদালতে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মাহেব হোসেন আদালতে হলফনামা দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়া ও জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, গত ১৬ জুন বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের জিআর-২০৫/২৪ মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে জাকির হোসেন শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটি ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর দায়ের করা হয়। মামলার বাদী পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব সুমন মণ্ডল। এতে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রেজাউল করিম জাকির, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল শরীফ, আওয়ামী লীগ নেতা তরুণ কর্মকারসহ ১৪৬ জনকে আসামি করা হয়।
পুলিশের প্রতিবেদনে শামীমকে যুবলীগের নেতা এবং সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর অনুসারী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, হলফনামায় বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং মামলার ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
হলফনামায় স্বাক্ষরকারীরা দাবি করেন, জাকির হোসেন শামীমের বাবা প্রয়াত সুলতান হোসেন খান ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তার ছোট ভাই শাহীন খান পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মা খাদিজা বেগম পৌর মহিলা দলের সাবেক সভাপতি। তারা আরও উল্লেখ করেন, শামীম বর্তমানে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
হলফনামায় বলা হয়, ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারির হামলার ঘটনায় শামীমকে ঘটনাস্থল বা আশপাশে কেউ দেখেননি। মামলার এজাহারেও তার নাম ছিল না এবং কোনো সাক্ষী তার সম্পৃক্ততার তথ্য দেননি। তদন্তকারী কর্মকর্তা সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ বা জিজ্ঞাসাবাদ না করেই তাকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
হলফনামায় স্বাক্ষর করেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান, সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন খোকন, শহর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের মোট ২০ নেতা।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান ও শহর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান বলেন, আমরা মামলার সাক্ষী হিসেবে যাকে নির্দোষ মনে করেছি, তার বিষয়ে আদালতে হলফনামা দিয়েছি।
অন্যদিকে, পুলিশ তাদের তদন্তের ভিত্তিতে শামীমকে গ্রেফতার করেছে বলে আদালতে উল্লেখ করেছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
সময়ের আলো/আরবিএন