ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যকার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পরিচালনা করা আর্জেন্টাইন রেফারি ফাকুন্দো তেয়োর পারফরম্যান্সকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লে’কিপ। ম্যাচে কয়েকটি বিতর্কিত মুহূর্ত থাকলেও পত্রিকাটি তাকে ১০-এর মধ্যে ৬ নম্বর দিয়েছে।
ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল প্রথমার্ধে কিলিয়ান এমবাপের পেনাল্টি নেওয়ার আগে ৩ মিনিট ১১ সেকেন্ডের দীর্ঘ অপেক্ষা। ভিএআর পর্যালোচনা এবং পেনাল্টি নেওয়ার আগে সবকিছু নিয়মমাফিক নিশ্চিত করতেই এই বিলম্ব হয়। তেয়ো নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন, কেউ যেন পেনাল্টি এরিয়ায় আগে প্রবেশ না করে এবং বলটি সঠিকভাবে স্পটের ওপর রাখা হয়।
তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর নেওয়া সেই পেনাল্টি কাজে লাগাতে পারেননি এমবাপে। পেনাল্টি মিস করার পর তিনি স্পষ্টভাবে বিরক্তি প্রকাশ করেন। ওসমান দেম্বেলেও এ নিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় সাইডলাইনে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম এক সহকারী রেফারির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন।
বিরতির সময় দেশম বলেন, এত দীর্ঘ অপেক্ষার পরিস্থিতি সত্যিই অদ্ভুত ছিল। প্রথমে তিনি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করলেন, তারপর আবার নতুন করে ভিএআর পরীক্ষা হলো।
এমবাপের প্রথম গোলের আগে আদ্রিয়েন রাবিওর সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের ঘটনাও ভিএআরে পর্যালোচনা করা হয়। তবে সম্প্রচারিত রিপ্লেতে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ম্যাচ শেষে মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেন, হ্যান্ডবল ছিল নিশ্চিত। তবে সেটি ফাউল হিসেবে ধরা উচিত ছিল কি না, তা আমি নিশ্চিত নই।
বিশ্বকাপে এটি ছিল ফাকুন্দো তেয়োর তৃতীয় ম্যাচ পরিচালনা। পুরো ম্যাচে তিনি খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং ফিফার নির্দেশনা অনুযায়ী খেলার গতি সচল রাখার চেষ্টা করেন। ৬৩তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপের ওপর বিপজ্জনক ট্যাকলের জন্য ইসা দিয়োপকে হলুদ কার্ডও দেখান তিনি।
তবে লে’কিপ মনে করেছে, ম্যাচে আরও বেশি অতিরিক্ত সময় দেওয়া উচিত ছিল। প্রথমার্ধে ৫ মিনিট এবং দ্বিতীয়ার্ধে ৬ মিনিট যোগ করা হলেও ভিএআর পর্যালোচনা, চিকিৎসা বিরতি ও ওয়াটার ব্রেকের সময় বিবেচনায় সেটি যথেষ্ট ছিল না।
সব মিলিয়ে, কয়েকটি ছোটখাটো ভুল থাকলেও লে’কিপ-এর মূল্যায়নে ফাকুন্দো তেয়ো ম্যাচটি সফলভাবেই পরিচালনা করেছেন এবং তার পারফরম্যান্স ১০-এর মধ্যে ৬ নম্বর পাওয়ার যোগ্য।
সময়ের আলো/আরবিএন