চার বছরের স্বপ্ন যেন দেড় ঘণ্টার এক মহাকাব্য

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

একটি ফুটবল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হতে মাঠের ঘড়িতে সময় লাগে মাত্র নব্বইটি মিনিট। আর যদি তাতে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারের

2026-07-10T17:28:26+00:00
2026-07-10T17:29:52+00:00
 
  শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬,
২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
খেলা
চার বছরের স্বপ্ন যেন দেড় ঘণ্টার এক মহাকাব্য
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৮ পিএম  আপডেট: ১০.০৭.২০২৬ ৫:২৯ পিএম
সংগৃহীত ছবি
একটি ফুটবল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হতে মাঠের ঘড়িতে সময় লাগে মাত্র নব্বইটি মিনিট। আর যদি তাতে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারের পেনাল্টি শুটআউটও যোগ হয়, তবে বড়জোর তা দুই ঘণ্টার গল্প। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ঘড়ির কাঁটার এই দুই ঘণ্টার একটি মুহূর্তের জন্যই তো একটা আস্ত দেশ চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করে থাকে দীর্ঘ চারটি বছর! এই দুটি ঘণ্টার মঞ্চে দাঁড়িয়ে একজন ফুটবলার বিলিয়ে দেন তার জীবনের সবচেয়ে সোনালি ও সুন্দর সময়গুলো। একজন দূরদর্শী কোচ দিনের পর দিন কাটান সম্পূর্ণ নির্ঘুম রাত। আর কোটি কোটি সমর্থক বুকভরা আকাশসম স্বপ্ন নিয়ে ক্যালেন্ডারের পাতা গুনে দিন কাটাতে থাকেন। তারপর হঠাৎ একদিন এক পড়ন্ত বিকেল, এক মায়াবী সন্ধ্যা কিংবা এক নিঝুম রাতে সবকিছুর চূড়ান্ত বিচার হয়ে যায় মাঠের ওই সবুজ ঘাসের ওপর।


এটাই তো আসলে ফুটবল বিশ্বকাপ! যেখানে প্রতি চার বছর পর পর বসে সময়ের সবচেয়ে নির্মম আর অলিখিত এক আদালত। চার বছর আগে যারা এই মঞ্চে হেরে গিয়ে চোখের জলে বুক ভাসিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন, তাদের অনেকেই মনে মনে শক্ত প্রতিজ্ঞা করেছিলেন-পরের বার আরও শক্তিশালী, আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে ফিরবেন। সেই প্রতিজ্ঞা রাখতে গিয়ে কেউ হয়তো চোটের তীব্র যন্ত্রণা কাটিয়ে অলৌকিকভাবে ফিরে এসেছেন, কেউবা আবার মাঝপথে নিজের চেনা ফর্ম হারিয়ে আর ফিরতেই পারেননি, আবার কেউ কেউ সময়ের নিয়মে বয়সের কাছে হার মেনে মাঠকেই বিদায় জানিয়েছেন। ঠিক তেমনি আবার কতশত নতুন চেনা-অচেনা মুখ এই চত্বরে পা রেখেছে, যারা হয়তো ঠিক চার বছর আগেও গ্যালারির কোনো এক কোণে বসে কিংবা ঘরের ড্রয়িংরুমে টেলিভিশনের সামনে চোখ রেখে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বকাপ দেখেছিল!


এই বিশ্বকাপ আদালত কাউকেই তার অতীতের সোনালি ইতিহাসের জন্য আগাম কোনো পুরস্কার দেয় না। এখানে আপনার নামের জোর কতটা, আপনার খ্যাতি কতখানি কিংবা আপনার পেছনে কত বড় গৌরবময় ইতিহাস আছে-তার কোনো মূল্য নেই। এখানে শুধু ওই নির্দিষ্ট দিনের পারফরম্যান্সই সবকিছু ওলটপালট করে নির্ধারণ করে দেয়। চলতি বিশ্বকাপেও এই কঠিন সত্যের প্রমাণ মিলেছে বারবার। যেমন, এবারের আসরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার আকাশচুম্বী স্বপ্ন নিয়ে আসা পরাশক্তি ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দিয়ে বিদায় করে দিয়েছে নরওয়ে। ফুটবল বিশ্ব নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছিল না যে, আরলিং হালান্ডদের বুকে থাকা আদিম সাহস আর গোলের তীব্র ক্ষুধার কাছে শেষ পর্যন্ত মাথা নোয়াতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের! মাত্র একটি ম্যাচ, একটি নির্মম রাত-আর তাতেই এক নিমেষে ধূলিসাৎ হয়ে গেল কোটি কোটি ব্রাজিলিয়ান সমর্থকের দীর্ঘ চার বছরের জমানো অপেক্ষা।


অন্যদিকে, মরক্কো এই আসরে আবারও বিশ্বকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে যে, তাদের আগের সাফল্যগুলো কোনো কাকতালীয় ঘটনা বা দুর্ঘটনা ছিল না। তারা প্রথমে কানাডাকে মাঠ থেকে উড়িয়ে দিয়েছে, আর তারপর ফ্রান্সের মতো বিশ্বসেরা ও শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে। তারা প্রমাণ করে ছেড়েছে যে, আফ্রিকার ফুটবলের ভেতরের আসল শক্তিটা কতটা ভয়ঙ্কর ও বাস্তব। ম্যাচটি হেরে যাওয়ার পরেও মরক্কোর ফুটবলারদের চোখে কোনো কাপুরুষোচিত আত্মসমর্পণ ছিল না, বরং সেখানে জ্বলজ্বল করছিল ভবিষ্যতের এক দুর্দান্ত প্রতিশ্রুতি।


এবারের আসরে স্পেন যেন ফুটবল মাঠে এক সম্পূর্ণ নতুন দর্শনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাদের তরুণ ফুটবলারদের নির্ভীক মনোভাব, চোখের পলকে দ্রুত পাসিং আর সারাক্ষণ আক্রমণাত্মক মানসিকতা তাদের ফুটবলের ভবিষ্যতের অন্যতম প্রধান দাবিদারে পরিণত করেছে। ঠিক তার বিপরীতে, বেলজিয়ামের জন্য এ যেন এক সোনালি প্রজন্মের শেষ অধ্যায়ের করুণ সুর। দীর্ঘ বহু বছর ধরে দলে প্রতিভার কোনো কমতি বা প্রাচুর্যের অভাব না থাকলেও, বিশ্বকাপের সেই কাঙ্ক্ষিত ট্রফিটা তাদের জন্য চিরকালই অধরা রয়ে গেল। তাই তো প্রতিটি ম্যাচ তাদের কাছে এখন কেবল খেলা নয়, বরং পুরো একটি প্রজন্মের উত্তরাধিকার রক্ষার মরণপণ লড়াই।


ইংল্যান্ডের ফুটবল গল্পটাও কিন্তু এর চেয়ে খুব একটা আলাদা নয়। প্রতিবারই তারা এক বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে মাঠে আসে, আর তাদের ঘিরে থাকে দেশের মানুষের বিশাল ও আকাশচুম্বী প্রত্যাশার চাপ। কিন্তু নকআউট পর্বের প্রতিটি মিনিট তাদের কাছে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও যেন এক অদৃশ্য ও তীব্র মানসিক যুদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়। এবারও সেই কঠিন মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায় নিজেদের প্রমাণ করার জন্য তারা ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করছে। আর আর্জেন্টিনা? তারা খুব ভালো করেই জানে এই বিশ্বকাপের অতিমানবীয় চাপটা আসলে কেমন! তারা প্রতি মুহূর্তে হাড়েমজ্জায় টের পায় একটা আস্ত দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন নিজের কাঁধে নিয়ে মাঠে নামার অনুভূতিটা ঠিক কী। মাঠের প্রতিটি জয় তাদের যেমন ইতিহাসের স্বর্ণালী পাতার আরও কাছে নিয়ে যায়, ঠিক তেমনি তাদের ছোট্ট একটি ভুলও পুরো একটা জাতিকে এক লহমায় ডুবিয়ে দিতে পারে চরম হতাশার অতল সাগরে।


এই ফুটবল মহাকাব্যে সুইজারল্যান্ডের মতো দলগুলো হয়তো কখনোই বড় বড় প্রচারমাধ্যমের বা আলোচনার মূল কেন্দ্রে থাকে না। কিন্তু মাঠের নিখুঁত শৃঙ্খলা, দারুণ সংগঠিত ফুটবল এবং ইস্পাতকঠিন ধৈর্য-এই তিনটি ধারালো অস্ত্র নিয়েই তারা যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো বড় দলকে চরম বিপদে ফেলে দিতে পারে। বিশ্বকাপের ইতিহাস আসলে এতটাই অদ্ভুত আর নির্মম!


ইতিহাসের পাতা ওল্টালে এমন কতশত ট্র্যাজেডির গল্প চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ১৯৫০ সালের সেই ঐতিহাসিক ফাইনাল, যেখানে মারাকানা স্টেডিয়ামের এক লক্ষাধিক স্তব্ধ দর্শকের সামনে উরুগুয়ে চোখের নিমেষে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল ব্রাজিলের অধরা স্বপ্ন। সেই অভিশপ্ত হার আজও ফুটবল ইতিহাসে ‘মারাকানাজো’ নামের এক কালো অধ্যায় হয়ে লেখা আছে। কিংবা ১৯৮২ সালের সেই নান্দনিক সৌন্দর্যের প্রতীক ব্রাজিল দল, যারা মন জয় করলেও ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখতে পারেনি। 


১৯৯৪ সালের সেই ফাইনাল, যেখানে রবার্তো বাজ্জিওর পা থেকে বেরিয়ে যাওয়া একটি মাত্র পেনাল্টি শট মিসের কারণে এক মুহূর্তে ভেঙে গিয়েছিল আস্ত ইতালির স্বপ্ন। ২০০৬ সালের ফাইনালে জিনেদিন জিদানের সেই আচমকা হেডবাট, যা একজন কিংবদন্তির রাজকীয় বিদায়ের গল্পটাকে এক লহমায় রূপ দিয়েছিল ট্র্যাজেডিতে। ২০১৪ সালে নিজেদের চেনা মাঠে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের সেই ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার ক্ষত আজও সমানে টাটকা, যা এখনো শুকায়নি। কিংবা ২০১৮ সালে তখনকার বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির গ্রুপ পর্ব থেকেই লজ্জাজনক বিদায়! আবার ২০২২ সালের বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে ফেবারিট আর্জেন্টিনার সেই প্রথম ম্যাচেই হেরে যাওয়া কিংবা মরক্কোর রূপকথা লিখে সেমিফাইনালে উঠে যাওয়া-এই সবকিছুই বারবার প্রমাণ করেছে যে, বিশ্বকাপের মঞ্চে ‘অসম্ভব’ বলে আসলে কোনো শব্দই নেই।


প্রতিটি বিশ্বকাপেরই অলক্ষ্যে একটা নিজস্ব কান্না থাকে, থাকে একটা করে অপূর্ণ রাজকীয় গল্প। কোনো এক মহানায়ক হয়তো মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ভুলে শেষ মুহূর্তে পুরো দেশের কাছে খলনায়কে পরিণত হন। আবার সম্পূর্ণ অচেনা কোনো এক সাধারণ ফুটবলার এক রাতের জাদুকরি পারফরম্যান্সে হয়ে যান আস্ত একটি জাতির জাতীয় বীর। মাঠের একটি মাত্র গোল ইতিহাসকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। টাইব্রেকারের একটি পেনাল্টি মিস একজন খেলোয়াড়কে উপহার দিতে পারে সারাজীবনের অন্তহীন অনুশোচনা। আবার ঠিক তেমনি বিপক্ষ দলের নিশ্চিত শটে গোলকিপারের বাড়িয়ে দেওয়া একটা অবিশ্বাস্য হাত কোটি কোটি মানুষের মুখে এনে দিতে পারে এক চিলতে অমলিন হাসি।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় এবং নিষ্ঠুর ট্র্যাজেডি হলো-এটি কাউকে নিজের ভুল শুধরে নেওয়ার জন্য দ্বিতীয় কোনো সুযোগ দেয় না। ইউরো কাপ, কোপা আমেরিকা কিংবা ক্লাব ফুটবলের অন্য যেকোনো বড় টুর্নামেন্ট তো মাত্র দুই-এক বছর পরই আবার ঘুরেফিরে ফিরে আসে। কিন্তু বিশ্বকাপ? তার জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ চারটি বছর। বহু ফুটবলারের জীবনে সেই অপেক্ষার প্রহর আর কোনোদিন শেষ হয় না। বয়স, চোট কিংবা ফর্মের ওঠানামা তাদের আর দ্বিতীয়বার এই সবুজ ঘাসে ফিরে আসার সুযোগটাই দেয় না। তাই ম্যাচ শেষের শেষ বাঁশিতে অনেকেই শুধু প্রতিপক্ষের কাছে হারেন না, চিরতরে হেরে যান নিজের জীবনের শেষ বিশ্বকাপটির কাছেও।


যখন একজন সাধারণ সমর্থক নিজের দেশের জাতীয় পতাকা কাঁধে জড়িয়ে গ্যালারিতে এসে দাঁড়ান, তিনি আসলে শুধু একা আসেন না; সঙ্গে করে নিয়ে আসেন নিজের ফেলে আসা শৈশব, নিজের জমানো আবেগ আর স্বদেশের কোটি মানুষের লালিত স্বপ্ন। আবার মাঠের ফুটবলারটি যখন খেলা শুরুর আগে জাতীয় সংগীতের সময় চোখ জোড়া বন্ধ করেন, তিনি তখন শুধু নিজের জন্য খেলেন না, খেলেন তাঁর দেশের কোটি মানুষের বিশ্বাসের আশা বুক নিয়ে।

একসময় মাঠের শেষ বাঁশিটি বেজে ওঠে। কেউ তখন বাঁধভাঙা আনন্দে মাঠের মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, কেউবা আবার পরম আকুলতায় হাঁটু গেড়ে বসে ডুকরে কান্না করতে থাকে। বিজয়ীদের হাতে পরম গৌরবে উঁচিয়ে ওঠে সোনালি ট্রফি, আর পরাজিতরা মাথা নিচু করে নীরবে সুড়ঙ্গ ধরে ফিরে যায় ড্রেসিংরুমের অন্ধকার কোণে। তবে সেই ড্রেসিংরুমের নিস্তব্ধ নীরবতার ভেতরেও কিন্তু অলক্ষ্যে জন্ম নিতে থাকে নতুন এক বুকভরা প্রতিজ্ঞা-আবার ফিরে আসব, আবার বুক চিতিয়ে লড়ব!


তাই তো, বিশ্বকাপ কখনোই শুধু ওই ৯০ মিনিটের কোনো সাধারণ ফুটবল খেলা নয়। এটি আসলে চার-চারটি বছরের হাড়ভাঙা খাটুনির ঘাম, সীমাহীন ত্যাগ, অবিচল বিশ্বাস, চোখের অশ্রু আর অনন্ত অপেক্ষার এক জীবন্ত মহাকাব্য। এখানে কেউ হয়তো চ্যাম্পিয়ন হয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে, আর কেউবা থেকে যায় চিরকালের এক অসমাপ্ত রূপকথা হয়ে। তবে দিনশেষে, জয় কিংবা পরাজয়-সবাই কোনো না কোনোভাবে এই অমর ইতিহাসের এক একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায়।

মাঠের ম্যাচটি হয়তো ঠিক ৯০ মিনিটেই শেষ হয়ে যায়, কিন্তু তার রেখে যাওয়া তীব্র আনন্দ, বুকভাঙ্গা বেদনা আর মায়াবী স্মৃতিগুলো মানুষের মনে বেঁচে থাকে পরবর্তী চার বছর, আর কখনো কখনো তো একদম সারাজীবন!

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   ফুটবল  পেনাল্টি  শুটআউট 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: