স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় গ্রিন টি এখন বেশ জনপ্রিয় একটি পানীয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ হওয়ায় অনেকেই দিনের শুরু করেন এক কাপ গ্রিন টি দিয়ে। তবে খালি পেটে এটি পান করার পর অনেকের বমি বমি ভাব, বুক জ্বালা কিংবা পেটে অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিন টিতে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান খালি পেটে পান করলে পাকস্থলীতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে এতে থাকা ট্যানিন পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে পাকস্থলীর ভেতরের আস্তরণে জ্বালাভাব তৈরি হয় এবং বমি বমি ভাব, অস্বস্তি বা অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া গ্রিন টিতে থাকা ক্যাফেইন সংবেদনশীল পাকস্থলীর মানুষের ক্ষেত্রে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যারা নিয়মিত খালি পেটে চা পান করেন না বা আগে থেকেই অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে
খালি পেটে কিছু মানুষের অস্বস্তির কারণ হলেও গ্রিন টির স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ২০২০ সালে ইউরোপিয়ান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে হৃদরোগ এবং কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, গ্রিন টি ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বা ওজন কমাতে কতটা কার্যকর, সে বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
অস্বস্তির জন্য দায়ী যেসব উপাদান
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিন টির দুটি প্রধান উপাদান ট্যানিন ও ক্যাফেইন খালি পেটে পান করলে অস্বস্তির মূল কারণ হতে পারে। ট্যানিন পাকস্থলীর অম্লতা বাড়িয়ে বমি বমি ভাব, পেট ফাঁপা, বদহজম ও বুক জ্বালার মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে ক্যাফেইন পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে যাদের গ্যাস্ট্রাইটিস বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, তাদের উপসর্গ আরও তীব্র হতে পারে।
যেভাবে এড়ানো যাবে
বিশেষজ্ঞরা খালি পেটে গ্রিন টি পান না করার পরামর্শ দিয়েছেন। হালকা নাশতা বা খাবারের পর গ্রিন টি পান করলে অস্বস্তির ঝুঁকি কমে। এছাড়া ঘুম থেকে উঠেই পরপর কয়েক কাপ গ্রিন টি পান করার অভ্যাস এড়িয়ে চলতে হবে।
গ্রিন টি পান করার পর বারবার বমি বমি ভাব বা পেটের সমস্যা দেখা দিলে এর পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া অথবা কম ক্যাফেইনযুক্ত বিকল্প বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ এর পেছনে অন্য কোনো হজমজনিত সমস্যা থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিক সময়ে গ্রিন টি পান করলে এর স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া সম্ভব। তবে শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে পান করার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
সময়ের আলো/আরবিএন