প্রকৃতিতে এখন বর্ষাকাল। এ মৌসুমে বাজারে বিভিন্ন পরিচিত, স্বল্প পরিচিত ফলের সমাহার দেখা যায়। তেমনই একটি স্বল্প পরিচিত ফল কাঠলিচু। বছর পাঁচেক আগেও এ ফল বাজারে খুব একটা ছিল না। কিন্তু এখন রাজধানীর ফুটপাত ধরে হাঁটলে প্রায়শ এ ফলের দেখা মেলে ভ্যানে বা টুকরিতে। দেশিয় এ ফল আগে জন্মাঞ্চলে সমাদৃত হলেও বর্তমান বাজারে এর বাণিজ্যিক চাহিদা তৈরি হয়েছে। শহরের অলিগলিতে ফেরি হওয়া ইঙ্গিত করছে, এ ফলের ফিরে আসাকে। একইসঙ্গে বাদামি রঙের ছোট আকারের ফলটি বিপদগ্রস্ত ফলের তালিকা থেকেও মুক্ত হওয়ার পথে।
এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ফল। দেশের বিভিন্ন জেলায় এই ফলের দেখা মিললেও ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ ও পাশের জেলা মানিকগঞ্জে বেশি জন্মে। আগে এ ফলটির চাহিদা না থাকলেও, এখন এর কদর ও মূল্য তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। এ ফলে প্রচুর শর্করা, ভিটামিন-সি ও খনিজসহ অন্যান্য পুষ্টিগুণ রয়েছে।
প্রাকৃতিক উপায়ে জন্ম নেওয়া এসব গাছের যত্ন নিতে হয় না। তবে, এই ফলের প্রধান শত্রু বাদুড়। বাদুড়ের ঝাঁক আক্রমণ করলে এক দিনে পুরো গাছের ফল খেয়ে ফেলতে পারে। তাই যখন ফল পাকতে শুরু করে, তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মশারি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। তবে, বর্তমানে এই ফলের বাণিজ্যিক মূল্য বাড়াতে গাছের বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ নতুন করে চারাও লাগাচ্ছেন। সার বা ওষুধ ও পরিচর্যা কম লাগে বলে অনেকেই এই ফল উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন।
লিচুর মৌসুম যখন শেষের পথে তখন এ ফলটি বাজার দখল করে। কিন্তু মাত্র এক মাস তার রাজত্ব চলে। স্থানীয়ভাবে এই ফল আঁটি বা ছড়াপ্রতি আকারভেদে ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়। আবার কেজি হিসেবে বিক্রি হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পাইকারি দরে কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে কাঠলিচু। এরপর তা বাজারে ৪৫০-৬০০ পর্যন্ত বিক্রি হয়। দাম বেশি হওয়ায় বেশিরভাগ ক্রেতাই ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম করে কিনে থাকেন। আকারভেদে প্রতি ১০০ কাঠলিচু ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়।
প্রায় বিলুপ্ত হতে থাকা এই ফলের চাহিদা কয়েক বছর ধরে বাড়তে থাকায়, আশা করা যাচ্ছে ভবিষ্যতে বিপদগ্রস্ত অবস্থা কাটিয়ে পুনরায় তা সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠবে।
সময়ের আলো/মহু