মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় বিদেশি ফলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আবারও বাজারে ফিরছে একসময় প্রায় হারিয়ে যেতে বসা দেশি ফল কাঠলিচু, যা অনেকের কাছে পিচ ফল নামেও পরিচিত। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে দেশি ফলের চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ায় এ ফলের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। বাজারে বাড়ছে চাহিদা, ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরাও।
গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে আম, কাঁঠাল, লিচু, জামসহ নানা দেশি ফলের সমারোহ থাকে বাজারে। এর মধ্যেই শিবচরের বিভিন্ন বাজারে দেখা মিলছে বাদামি রঙের ছোট আকারের কাঠলিচুর। একসময় গ্রামবাংলার পরিচিত এই ফল এখন অনেকটাই দুর্লভ। তবে কয়েকজন উদ্যোক্তা ও কৃষকের উদ্যোগে আবারও বাজারে ফিরতে শুরু করেছে ফলটি।
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান খান বলেন, দেশি ফল বিলুপ্তির পথে। আমরা অনেক বছর ধরেই দেশি ফল ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের দেশি ফলের বাগান করতে উৎসাহ দিচ্ছি। পাশাপাশি চারা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি। এর ফলেই শিবচরে কাঠলিচু বা পিচ ফলের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিছুদিন আগেই আমরা দেশি ফলের একটি ফলমেলার আয়োজন করেছি।
শিবচর বাজারের খুচরা ফল বিক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, কাঠলিচুর চাহিদা মোটামুটি ভালো। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ কেজি বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করছি।
উপজেলার কৃষক লতিফ সরকার তিন বছর আগে কাঠলিচুর বাগান করেন। তিনি বলেন, এ বছর আমার বাগানে প্রায় ২০ মণ ফল ধরেছে। চাহিদাও ভালো। খুচরা বিক্রেতারা বাগান থেকেই ফল কিনে বাজারে বিক্রি করছেন।
কাঠলিচু কিনতে আসা শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, ছোটোবেলায় এই পিচ ফল অনেক খেয়েছি। কিন্তু আমার সন্তানরা বিদেশি ফল চিনলেও দেশি অনেক ফল চেনে না। তাই তাদের পরিচয় করিয়ে দিতে কাঠলিচু কিনছি। দেশি ফল কেমিক্যালমুক্ত এবং পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ।
কৃষি বিভাগ বলছে, দেশি ফল সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে শিবচরে কাঠলিচুর উৎপাদন আরও বাড়বে। এতে একদিকে কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে হারিয়ে যেতে বসা দেশি ফল নতুন প্রজন্মের কাছেও পরিচিত হয়ে উঠবে।
সময়ের আলো/জোই