সীতাকুণ্ডে পাহাড়ধসের শঙ্কা, নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে প্রশাসনের আহ্বান

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

সারাদেশ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাতে পাহাড়ের মাটি

2026-07-07T16:58:49+00:00
2026-07-07T16:58:49+00:00
 
  সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬,
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
সীতাকুণ্ডে পাহাড়ধসের শঙ্কা, নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে প্রশাসনের আহ্বান
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম 
সীতাকুণ্ড উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা ও জলাবদ্ধতা। ছবি : সময়ের আলো
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়ায় পাহাড়ের পাদদেশ ও ঢালু এলাকায় বসবাসকারী হাজারো মানুষ চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক জরুরি সতর্কবার্তায় বলা হয়, অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। তাই পাহাড়ের পাদদেশ, পাহাড়সংলগ্ন ঢালু এলাকা এবং জলাবদ্ধতাপ্রবণ স্থানে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ধসের আশঙ্কার কথা জানিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।


সমুদ্রবন্দরগুলোতেও স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধস ও আকস্মিক জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর, সোনাইছড়ি, কুমিরা, বাঁশবাড়ীয়া, বারৈয়াঢালা, বাড়বকুণ্ড, মুরাদপুরসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় বহু পরিবার পাহাড়ের ঢাল ও খাঁজে বসবাস করছে। এসব পরিবারের অধিকাংশই দিনমজুর, রিকশাচালক ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। অতীতের পাহাড়ধসের মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি এখনও স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক তৈরি করে।

অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং, সচেতনতামূলক প্রচার ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতের কার্যক্রম চোখে পড়লেও এবার শুরুতে তেমন দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যায়নি। তবে প্রশাসনের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরসহ কয়েকটি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসন কাজ করছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে অনেক বাসিন্দা জীবিকা ও বসতভিটার কারণে ঘর ছেড়ে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তাদের বোঝানোর চেষ্টা চলছে।

উপজেলা প্রশাসন সবাইকে অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়া, পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে অবস্থান না করা, শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রশাসন জানিয়েছে, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এবং প্রয়োজনে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে বলে জানান প্রশাসন। 

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   সীতাকুণ্ড  পাহাড়ধস  শঙ্কা  নিরাপদ আশ্রয়  প্রশাসন  আহ্বান 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: