টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে ভোলার মনপুরা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক, ফসলের মাঠ ও বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপকূলের বাসিন্দা, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে পুরো উপকূলজুড়ে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকে। টানা বর্ষণের কারণে অনেক এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ঘর থেকে বের হতে না পারায় দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবারের চুলায় পর্যন্ত আগুন জ্বলেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে ৩ থেকে ৪ ফুট পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মূল ভূখণ্ড ও বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে দোকানপাট ও ব্যবসা-বাণিজ্যও স্থবির হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম, হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট, চরযতীন, সোনারচরের পূর্ব ও পশ্চিমাংশ, মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড় ও কাউয়ারটেক এবং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায়ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সফিজল, মেহেদী, ইউসুফ, রাকিব, আকরাম হোসেন, হাসান, নাহিদ ও মোস্তফা অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছাড়াই মনপুরার চারপাশে বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ চলায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি অধিকাংশ স্লুইসগেট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো থাকায় খাল দিয়ে পানি নামতে পারছে না, ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, ‘টানা বর্ষণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্লুইসগেট মেরামতসহ দ্রুত পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
সময়ের আলো/এসএকে