জীবনের অভিযোগ-অনুযোগের কিনারায় দাঁড়িয়ে বিষন্নমনে সৃষ্টিকর্তাকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হলো আপনার, এবং করলেনও। শুধু আপনি নয়, এমন হরহামেশাই আমরা করে থাকি, তাই না? কিন্তু কখনও ভেবেছেন, হৃদয়ের কোণে জমা হওয়া সে প্রশ্নগুলো লিখে দিলেই আপনার জন্য খুলে যেতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান অন্বেষণের দুয়ার।
এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষায় ভর্তিচ্ছুদের জন্য ছুঁড়ে দিয়েছে এমনই এক প্রশ্ন। কোনো সিলেবাস নয়, কোনো পুঁথিগত বিদ্যা নয়, এ যেন কেবল সৃষ্টিকর্তাকে কয়েক প্রশ্ন করেই মনভার কমানোর একটি তরিকামাত্র।
এখানেই শেষ নয়, এ বিশ্বায়নের অস্থিরতায় প্রায়শ আমরা ডুব দেই প্রিয় কোনো বইয়ের পাতায় কিংবা সিনেমার উজ্জ্বল আলোয়ে। বই পড়তে পড়তে আমাদের সঙ্গে দেখা মেলে চারপাশের নতমুখের চেনা নারীদের বাইরের অন্য এক নারীসত্ত্বার সঙ্গে। সিনেমায়ও তাই ঘটে। আমরা তখন সেই চরিত্রের সঙ্গে বাঁচতে শুরু করি, পথচলি, হাসি-কাঁদি এমনকি পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে শিখি। ওই শক্তিশালী নারী-চরিত্রের প্রেমেও পড়ি, তাই না? যদি হয়, লিখে ফেলুন ‘সাহিত্যে-পড়া বা সিনেমায় দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী নারী-চরিত্র’ নিয়ে আপনার যাপন, আপনার ভাবনা। আর যাবদপুর আপনার সামনে খুলে দেবে জ্ঞানের দুয়ার।
এমনও হতে পারে সেই পথের পাঁচালীর দুর্গা, যার কখনও ট্রেনে চড়া হয়নি, কিন্তু এবার আপনার সঙ্গে ট্রেন ভ্রমণে থাকছে দুর্গা। এমন সুযোগ পেয়ে আপনার মনের দুয়ারে কড়া নাড়তে পারে স্বয়ং বিভূতিভূষণ চট্টোপাধ্যায়। নিশ্চয় আপনার কত কি বলার আছে! বাধা কোথায়? ২ ঘণ্টা ধরে লিখে ফেলুন মনের সব কথা, আর বাংলা সাহিত্যের বিশালতায় হারানোর অনন্য সুযোগ লুফে নিন।
শুধু তাই নয়, ২ ঘণ্টা সময় নিয়ে মন খুলে লেখার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সাজিয়ে চমকপ্রদ প্রশ্নের ঝাঁপি। দেখে নিন এক পলকে আরও যেসব বিষয় থাকছে সেই প্রশ্নে।
যে কোনও একটি বিষয়ে নিবন্ধ রচনা করো
ক. সাহিত্যে-পড়া বা সিনেমায় দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী নারী-চরিত্র
খ. তোমার ছোটবেলাকার ইচ্ছেগুলো, খামখেয়ালগুলো
গ. ‘পথের পাঁচালী’র দুর্গার সঙ্গে তোমার এক কাল্পনিক ট্রেন-সফর
ঘ. উত্তমকুমার ‘বনাম’ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়
ঙ. প্রিয় সাহিত্যিকের উদ্দেশে লেখা তোমার খোলা-চিঠি
চ. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: সুখের কথা, ভয়ের কথা
ছ. যে-বইটি তোমার প্রিয়জনকে উপহার দিতে চাও
জ. সাহিত্যিকের আড্ডা: বৈকুণ্ঠ মল্লিক, লালমোহন গাঙ্গুলি, সত্যজিৎ রায়
ঝ. যে-জঙ্গল কেটে ফেলা হচ্ছে তার পাখিদের কথোপকথন
ঞ. ঈশ্বরকে যদি গুটিকয় প্রশ্ন করার সুযোগ পেতে...
বলুন, এমনও প্রশ্ন হয়! হলে কার না লিখতে ইচ্ছে করে?
সিলেবাসের তোয়াক্কা না করে এমন অভিনব প্রশ্ন তৈরি করে এর আগেও বেশ কয়েকবার আলোচনায় এসেছিল যাবদপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বিশেষ করে ২০২২ সালের প্রশ্নপত্র নেটদুনিয়া তোলপাড় করে দিয়েছে। সেসময় প্রশ্নগুলো ছিল এমন-
যে কোনও একটি বিষয়ে নিবন্ধ রচনা করো। সেখানে পূর্ণমান ২০। মোট ৯টি প্রশ্ন। তার মধ্যে থেকে একটি প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
ক) তোমার মনকেমনের গান।
খ) তোমার পড়া কমিকসের প্রিয় চরিত্ররা।
গ) তোমার অতিমারীর দিনগুলো
ঘ) বাংলা সাহিত্যে ভাল ভূত, খারাপ ভূত।
ঙ) যে দেশকে আমি ভালবাসি।
চ) তোমার ভাললাগার বই।
ছ) বাংলা কবিতা : প্রেমে, প্রতিবাদে।
জ) মনে-মনে যেখানে যেতে চাই।
এমন প্রশ্ন দেখে, যারা একাডেমিক পাঠ চুকিয়ে এসেছেন, তাদের মন কেমন উতালা করছে না? কিংবা যারা এখনও সেই গণ্ডিতে আছেন কিন্তু ‘বিরক্তিকর’ প্রশ্নই বারবার আপনার সামনে তারাও হয়তো আক্ষেপ করছেন- ইশ্ এমন প্রশ্ন যদি আমারও হতো!
উল্লেখ্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অবস্থিত একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি রাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এবং এর প্রধান ক্যাম্পাস পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা শহরে যাদবপুর এলাকায় ৬০ একর এলাকা জুড়ে অবস্থিত।
এই ক্যাম্পাসে কারিগরি ও প্রযুক্তি শাখা, বিজ্ঞান ও কলা শাখার প্রধান বিভাগগুলো রয়েছে। মূল ক্যাম্পাসে ৭টি প্রেক্ষাগৃহ রয়েছে। ক্যাম্পাসে একটি ওপেন এয়ার থিয়েটারও রয়েছে যার বসার ক্ষমতা প্রায় ৩০০০।
৬ একর স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ব্যাডমিন্টন কোর্ট, টেনিস কোর্ট, কাবাডি কোর্ট এবং ক্রিকেট ও ফুটবলের মতো অন্যান্য খেলার জন্য খেলার মাঠ রয়েছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধাননগর সেক্টর-III-এ ২৬ একর এলাকায় দ্বিতীয় ক্যাম্পাস রয়েছে। ক্যাম্পাসে নির্মাণ প্রকৌশল, ইন্সট্রুমেন্টেশন প্রকৌশল, মুদ্রণ কারিগরি, তথ্য ও প্রযুক্তি এবং শক্তি প্রকৌশল নামে ৫টি বিভাগ রয়েছে।
সময়ের আলো/কেআই