বিশ্বব্যাপী আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। গত কয়েক দশকে রোগটির প্রকোপ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০২৪ সালে তা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
২০২৫ সালের ২১ আগস্ট প্রকাশিত সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ২০২৪ সালেই বিশ্বজুড়ে ১ কোটি ৪৬ লাখের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে অন্তত ১২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিশ্বের ৯৭টি দেশ থেকে ৪০ লাখের বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী এবং ৩ হাজারের বেশি মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে ডেঙ্গু আর শুধু গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ইউরোপ ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মতো নতুন এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। ২০২৪ সালে ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর লক্ষণ মৃদু থাকে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রূপ নিয়ে প্রাণঘাতী হতে পারে।
ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উচ্চমাত্রার জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, মাংসপেশি ও হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং শরীরে র্যাশ।
ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার পরও অনেকের কয়েক সপ্তাহ ধরে শারীরিক দুর্বলতা থাকতে পারে। তবে তীব্র পেটে ব্যথা, অনবরত বমি, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত, রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে রক্ত, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, প্রবল দুর্বলতা কিংবা ত্বক ফ্যাকাশে বা ঠান্ডা হয়ে গেলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রচুর তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে। ব্যথা বা জ্বরের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কেবল প্যারাসিটামল সেবন করা উচিত। তবে আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিনের মতো নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এসব ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার কামড় থেকে সুরক্ষাকে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। যেহেতু এডিস মশা দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে, তাই দিনেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ জন্য শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরা, দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার, জানালায় নেট লাগানো, মশা প্রতিরোধক স্প্রে বা কয়েল ব্যবহার এবং ঘর ও আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রেখে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমানে QDenga নামে একটি টিকা কয়েকটি দেশে অনুমোদিত হলেও, এটি কেবল ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা শিশু-কিশোরদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
সময়ের আলো/আরবিএন