অনেকেরই ধারণা আলু মানেই কেবল মেদ বা ওজন বৃদ্ধি। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, সঠিক উপায়ে রান্না করে পরিমিত পরিমাণে খেলে পুষ্টিগুণে ভরপুর আলু শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সুস্থ রাখতে দারুণ ভূমিকা পালন করে।
আলুতে রয়েছে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি এবং বি৬। নিয়ম মেনে সেদ্ধ বা বেক করা আলু খেলে এর পটাশিয়াম ও ফসফরাস খনিজ উপাদান হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে এবং মজবুত করতে সাহায্য করে।
হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও আলুর ভূমিকা রয়েছে। এটি শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করে দিয়ে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে। তবে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা চিপসের মতো ডুবো তেলে ভাজা আলু হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি করতে পারে।
হজমপ্রক্রিয়া সচল রাখতে আলুর দ্রবণীয় ফাইবার ও রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ বেশ কার্যকর। এগুলো অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য রক্ষা করে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমায়। একই সঙ্গে আলুর ভিটামিন সি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
আলু খেয়ে ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে রান্নার পদ্ধতিতে বদল আনতে হবে। আলু রান্না করে ঠাণ্ডা করার পর পুনরায় গরম করে খেলে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ বাড়ে, যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করে।
তবে সবুজ রঙ ধারণ করা কিংবা অঙ্কুর গজানো আলু খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এগুলোতে সোলানিন নামের প্রাকৃতিক বিষাক্ত উপাদান থাকে। এ ছাড়া অতিরিক্ত পোড়ানো আলু স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।
পুষ্টির পূর্ণ সুবিধা পেতে আলু সবসময় মূল খাবার হিসেবে না খেয়ে সাইড ডিশ হিসেবে খাওয়া উচিত। সবচেয়ে ভালো হয় যদি অতিরিক্ত চিজ বা মাখন এড়িয়ে সম্ভব হলে খোসাসহ সেদ্ধ বা স্টিম করে আলু খাওয়া যায়।
সময়ের আলো/জেডি