বিশ্বকাপ শুরুর আগে রেফারিংয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে ফিফা। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ সংক্রান্ত নতুন নিয়ম, যার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ফিফার রেফারিং বিষয়ক প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা। চলমান বিশ্বকাপে এই নিয়মের কারণে প্রথমবারের মতো লাল কার্ড দেখেছেন সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলো।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ৭২তম মিনিটে ঘটে বিতর্কিত এই ঘটনা। শুরুতে রেফারি জোয়াও পিনহেইরো মনে করেছিলেন, আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ফাউল করেছেন। সে অনুযায়ী তিনি পারেদেসকে হলুদ কার্ডও দেখান।
তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) হস্তক্ষেপ করলে রেফারিকে মনিটরে গিয়ে ঘটনা পুনরায় দেখতে বলা হয়। রিপ্লে দেখে তিনি নিশ্চিত হন, পারেদেস কোনো ফাউল করেননি। বরং সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলো ডাইভ দিয়েছেন। এরপর পারেদেসকে দেখানো হলুদ কার্ড বাতিল করে এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
প্রথমার্ধেই একটি হলুদ কার্ড পাওয়ায় এটি ছিল এমবোলোর দ্বিতীয় হলুদ। ফলে তাকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়।
ঘটনার মাত্র পাঁচ মিনিট আগে সুইজারল্যান্ড ম্যাচে সমতা ফিরিয়েছিল। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে লাল কার্ড দেখে ২৯ বছর বয়সী এমবোলো কান্নায় ভেঙে পড়েন। সতীর্থরা তাকে সান্ত্বনা দিলেও অনেক ফুটবল বিশ্লেষক তার প্রতি সহানুভূতি দেখাননি।
সাবেক স্ট্রাইকার ব্র্যাডলি রাইট-ফিলিপস বলেন, আমি এমবোলোর সতীর্থদের জন্য দুঃখিত, কিন্তু তার জন্য নয়। সে হয়তো তার দলকে সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে।
জ্যামাইকার সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার জোবি ম্যাকআনফ বলেন, ব্রিল এমবোলো নিজেকে এবং তার সতীর্থদের হতাশ করেছে। হয়তো সে ভেবেছিল ধাক্কাটি আরও আগে আসবে, কিন্তু তা হয়নি। এটি ডাইভিং ছিল ঠিকই, তবে তার জন্য খারাপও লাগছে।
১০ জনের সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
ম্যাচ শেষে সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেন, একজন কম নিয়ে খেললেও আমরা আমাদের সবটুকু দিয়েছি। আমি সবার জন্য অত্যন্ত গর্বিত।
কী এই ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়ম?
বিশ্বকাপের আগে ফিফা রেফারিংয়ে বেশ কয়েকটি নিয়ম পরিবর্তন করে। এর মধ্যে ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়মটি বিশেষভাবে যুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন ফিফার রেফারিং বিষয়ক প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা।
এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড়কে ভুলবশত কার্ড দেখানো হলেও পরে যদি ভিএআরের মাধ্যমে প্রমাণ হয় যে ফাউলটি অন্য কোনো খেলোয়াড় করেছেন বা সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল, তাহলে রেফারি সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবেন।
এমবোলোর ঘটনায় প্রথমে পারেদেসকে ভুল করে হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল। পরে ভিএআরের সাহায্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এমবোলোকে ডাইভিংয়ের জন্য হলুদ কার্ড দেওয়া হয়। প্রথমার্ধে একটি হলুদ কার্ড থাকায় দ্বিতীয় হলুদ থেকেই লাল কার্ড দেখতে হয় তাকে।
এর আগে চলতি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের ম্যাচেও এই নিয়মের প্রয়োগ হয়েছিল। মার্কিন ডিফেন্ডার টিম রিমকে প্রথমে মিগুয়েল আলমিরনের ওপর ফাউলের দায়ে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। পরে ভিএআরের সহায়তায় ডাচ রেফারি ড্যানি মাক্কেলি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রিমের কার্ড বাতিল করেন এবং ডাইভিংয়ের দায়ে আলমিরনকে হলুদ কার্ড দেখান। এর আগে রেফারিদের এমন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না।
সময়ের আলো/আরবিএন