শেষ আষাঢ়ের এই আকস্মিক বৃষ্টিতে রাজধানী নাজেহাল। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, দিনমজুর ও সাধারণ পথচারীদের পড়তে হয়েছে অবর্ণনীয় এবং অন্তহীন দুর্ভোগের মুখে। ভিজে ভিজে কেউ যাচ্ছেন অফিসে, কেউ স্কুল-কলেজে। অনেকের মনেই ভয়— বৃষ্টিতে ভিজলেই কি হবে সর্দি-জ্বর?
বৃষ্টিতে ভিজলেই ঠান্ডা লেগে সর্দি-জ্বর হয়— প্রচলিত এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বৃষ্টির পানি নিজে সর্দি-জ্বরের কারণ নয়, বরং এর আসল কারণ হলো ‘রাইনোভাইরাস’ নামের একটি ভাইরাস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠান্ডা পরিবেশে এই ভাইরাস তুলনামূলক ভালোভাবে টিকে থাকতে এবং বংশবিস্তার করতে পারে। বৃষ্টিতে ভিজে শরীরের তাপমাত্রা কমে গেলে নাক ও গলার ভেতরের অংশও কিছুটা ঠান্ডা হয়ে যায়, যা ভাইরাসের সংক্রমণের সুযোগ বাড়িয়ে দেয়। শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠার ফলেই হাঁচি, সর্দি ও জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
বৃষ্টির এই সময়ে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেকে মুক্ত ও সুস্থ রাখতে চিকিৎসকরা কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন :
প্রয়োজনীয় জিনিস সাথে রাখা
বাইরে বের হওয়ার সময় ছাতা বা রেইনকোট ব্যবহার করা উচিত। সম্ভব হলে অফিসে অতিরিক্ত একসেট শুকনো কাপড় রাখা ভালো।
দ্রুত গোসল ও কাপড় বদলানো
বৃষ্টিতে ভিজলে কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করে ফেলা উচিত। এতে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ফিরে আসে এবং ত্বকের জীবাণু ধুয়ে যায়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো
পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি এবং ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখা জরুরি।
নিয়মিত হাত ধোয়া
বাইরে থেকে ফিরে বা কিছু খাওয়ার আগে অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেওয়া উচিত। এটি পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও কমায়।
শরীর গরম রাখা
ভেজা কাপড় পরে দীর্ঘ সময় না থেকে দ্রুত তা বদলে ফেলা এবং প্রয়োজনে হালকা গরম কাপড় পরা উচিত।
হালকা ব্যায়াম
জ্বর না থাকলে শুধু হালকা সর্দির ক্ষেত্রে ঘরে সামান্য হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম নাক বন্ধভাব কমাতে এবং শরীরকে স্বস্তি দিতে সাহায্য করে। তবে জ্বর থাকলে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।
সময়ের আলো/জেডি