রাজধানীর মহাখালীতে প্রেমিককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বিউটি আক্তারকে (৩০) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রথমে প্রেমিকের স্পর্শকাতর অঙ্গে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন, পরে পেটে একাধিক ছুরিকাঘাত করেন।
রোববার (১৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট থানার প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, নিহত মামুন মিয়া (৩৩) হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এদিন আসামিপক্ষ থেকে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর আগে ময়মনসিংহের বাসিন্দা মামুনের সঙ্গে বিউটি আক্তারের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১০ জুলাই চিকিৎসার কথা বলে ঢাকায় এসে মহাখালীর টিবি গেট পূর্বপাড়া এলাকায় একটি কক্ষ ভাড়া নেন বিউটি। পরদিন সেখানে দেখা করতে গেলে বিয়ের বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক হয়। একপর্যায়ে বিউটি ধারালো চাকু দিয়ে মামুনকে গুরুতর জখম করেন।
চিৎকার শুনে স্থানীয়রা মামুনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের চাচা মোকসেদ আলী ভূঁইয়া জানান, পাঁচ মাস আগে বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকরি পান মামুন। এক মাস আগে তিনি যোগদান করেন। তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বর্তমানে গ্রামের বাড়িতে রয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিউটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
সময়ের আলো/এসএকে