মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় সরকারি খাস জমি জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে নামজারি করার চেষ্টার অভিযোগে পলাশ চন্দ্র দাস নামে ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এ সময় নামজারির কাজ করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে এক কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাল দলিল ও খতিয়ান তৈরির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন।
রোববার (১২ জুলাই) শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে শুনানির সময় ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে ব্যবস্থা নিতে শিবচর থানায় লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
আটক ব্যক্তি ৭১ নম্বর কেরানিবাট মৌজার সরকারি ১/১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ৪১১ শতাংশ জমির নামজারির আবেদন করেছিলেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাইখা সুলতানা বলেন, ‘৭১ নম্বর কেরানিবাট মৌজার সরকারি জমির নামজারি নিয়ে অনলাইনে একটি আপিল আবেদন করা হয়। যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, একই বিষয়ে এর আগে তিনবার আবেদন করা হলেও জালিয়াতির অভিযোগে সেগুলো নামঞ্জুর হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘শুনানির জন্য আবেদনকারীকে মূল কাগজপত্রসহ উপস্থিত হতে বলা হয়। তিনি যে এসএ খতিয়ান উপস্থাপন করেন, তা যাচাই করে সম্পূর্ণ জাল বলে প্রতীয়মান হয়। এছাড়া, যে ব্যক্তির ওয়ারিশ দাবি করে তিনি জমির মালিকানা চেয়েছেন, এসএ খতিয়ানে ওই ব্যক্তির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।’
সহকারী কমিশনার আরও বলেন, ‘আবেদনকারী যে দলিলের ভিত্তিতে জমির মালিকানা দাবি করেছেন, সেটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সংগ্রহ করে যাচাই করা হয়েছে। সেখানে দলিলের দাতা ও গ্রহীতার তথ্যের সঙ্গে উপস্থাপিত কাগজপত্রের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে জাল দলিল ও খতিয়ান তৈরির সঙ্গে জড়িত আরও তিনজনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, উপস্থাপিত স্বাক্ষর ও সিলও জাল।’
তিনি জানান, ঘটনাটি ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের ৫ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায়, অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
শিবচর পৌর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানান, এ বিষয়ে পলাশ চন্দ্র দাস বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার তদবির করেন। একপর্যায়ে নামজারির কাজ করে দেওয়ার জন্য তাকে এক কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে তাদের নির্দেশনায় রবিবার শুনানির জন্য আবেদনকারীকে ডাকা হয়। পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন।
সময়ের আলো/মহু