খুলনায় নিখোঁজের দীর্ঘ পাঁচ মাস পর এক ইজিবাইক চালকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিজ বাড়ির সামনে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থা থেকে এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তির নাম মারুফ।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে হরিণটানা থানার রেলব্রিজ সংলগ্ন ব্লু ওয়েল আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির সামনে থেকে মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাড়ির মালিক মুরাদ মোল্লা ও তার স্ত্রী ফাল্গুনী খাতুনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্লু ওয়েল আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মুরাদ মোল্লার সঙ্গে তার স্ত্রী ফাল্গুনী খাতুনের প্রায়ই পারিবারিক কলহ ও ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। সোমবার সকালেও মুরাদ তার স্ত্রীকে বেদম মারধর করেন। স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে ফাল্গুনী খাতুন হরিণটানা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ জানানোর এক পর্যায়ে ফাল্গুনী পুলিশকে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। তিনি জানান, তার স্বামী মুরাদ মোল্লা প্রায় পাঁচ মাস আগে মারুফ নামের এক চালককে হত্যা করে তার ইজিবাইকটি ছিনতাই করেছিলেন। পরবর্তীতে ইজিবাইকটি ভেঙে টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রিও করে দেওয়া হয়। ফাল্গুনীর এই জবানবন্দি শোনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানে নেমে স্বামী মুরাদ মোল্লাকে আটক করে।
হরিণটানা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হোসেন মিলন জানান, নিহত ইজিবাইক চালক মারুফ আসামিদের পূর্বপরিচিত ছিলেন। গত রমজান মাসের কোনো এক রাতে কৌশলে ফোন করে মারুফকে নিজেদের বাসায় ডেকে আনেন মুরাদ। এরপর তিনি ইজিবাইকে বসা থাকা অবস্থাতেই পেছন থেকে দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে মারুফকে হত্যা করেন। ওই রাতেই মরদেহটি বাড়ির উঠানে গর্ত করে পুঁতে রাখা হয়েছিল। পরে চালকের ইজিবাইকটি কেটে টুকরো টুকরো করে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
পুলিশ আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটি খুঁড়ে মারুফের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় গুডুদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. তুহিন বলেন, মুরাদ মোল্লা একজন চিহ্নিত মাদকসেবী। মাদকের টাকার জন্য সে নিজের বাবা-মায়ের ওপরও নিয়মিত অত্যাচার করত। তার এই অনৈতিক ও উগ্র কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না বললেই চলে। মাদকাসক্তির কারণেই সে এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পেরেছে।
পুলিশ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই