জয়পুরহাটে সপ্তম শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় আলম মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১২ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আবদুর রহমান এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আলম মণ্ডল জেলার আক্কেলপুর উপজেলার পালশা গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী ১৩ বছর বয়সী ওই শিশুটি স্থানীয় একটি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে সে মাদরাসা থেকে বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে পোশাক পরিবর্তন করছিল। সে সময় বাড়িতে অন্য কোনো সদস্য না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী আলম মণ্ডল ঘরে প্রবেশ করেন। তিনি পেছন থেকে মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে খাটের ওপর নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
ধর্ষণের সময় মেয়েটির চিৎকার শুনে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে আসামি আলম মণ্ডল দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে শিশুটি পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি খুলে বললে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই নৃশংস ঘটনার দুই দিন পর, ১১ অক্টোবর ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে আক্কেলপুর থানায় আলম মণ্ডলকে একমাত্র আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আজ এই সর্বোচ্চ শাস্তির রায় প্রদান করেন। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/জোই