চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যার্তদের ত্রাণ দিতে এসে জাতীয় পার্টির এক প্রেসিডিয়াম সদস্যের বাড়িতে উঠেছিলেন এনসিপির শীর্ষ নেতা ও সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত তিনটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) ভূমিকার সমালোচনা করে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি তুলেছিল এনসিপি। এ দাবিতে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎও করে দলটি। পাশাপাশি মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে দাবির পক্ষে মাঠেও সক্রিয় ছিল এনসিপি।
রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় তারা বাঁশখালীতে জাপা নেতা মাহমুদুল ইসলামের বাড়িতে যান। রাতে জাপা নেতার মিয়া বাড়িতেও ছিলেন তারা। সেখানে একদল নেতাকর্মী নিয়ে খাওয়া দাওয়া করেছেন। স্থানীয় ও দলীয় সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এনসিপি নেতাদের ছবি নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
জাতীয় পার্টির ওই প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রবীণ রাজনীতিক মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি গ্রামের ‘মিয়া বাড়ির’ সন্তান। মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী জাতীয় পার্টির আমলে দুই দফায় বাঁশখালীর সংসদ সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের নেতা হিসেবে তিনি বেশ আলোচিত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে জাপার মধ্যে নেতিবাচক আলোচনা হচ্ছে।
এনসিপি নেতাদের যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। তবে তিনি বলেন, তাদের আসার বিষয়টি আগে থেকে জানতেন না।
তিনি সাংবাদিকদের বললেন, আমি আগে থেকে জানতাম না। এটা তো আমার একার বাড়ি না। আমরা ছয় ভাইয়ের যৌথ বাড়ি। আমরা কেউ গ্রামের বাড়িতে থাকি না। সেখানে যে এনসিপি নেতারা যাবেন আমাকে কেউ আগে থেকে বলেননি। যাওয়ার পর জেনেছি। আমার ছোট এক ভাই আমেরিকা থাকে। শুনেছি তার সঙ্গে এনসিপি নেতারা যোগাযোগ করে আমাদের বাড়িতে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সে তাদের থাকার অনুমতি দেয়।
স্থানীয়রা জানান, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীরা ছয় ভাই। এদের মধ্যে একজন রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী আমেরিকায় থাকেন। এনসিপি নেতাদের ‘মিয়া বাড়িতে’ থাকা-খাওয়ার বিষয়টি দেখভাল করেন তাদের বড় ভাই অলিউল ইসলাম চৌধুরী শুক্কু মিয়ার ছেলে রহিমুল এহসান চৌধুরী মিঠু। খাওয়ার ছবি ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপকভাবে। এরপর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ