যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখছেন না দেশটির সাধারণ নাগরিকেরা। তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে পরিচালিত এক নতুন জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিনীই আশঙ্কা করছেন এই যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও বৈশ্বিক জরিপ সংস্থা ইপসোসের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক জনমত জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।
দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নৌ-অবরোধ ও ২০ শতাংশ মাশুল (টোল) আরোপের ঘোষণার মধ্যেই এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়।
তিন দিনব্যাপী পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, ৭৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক তৎপরতা ‘দীর্ঘ সময় ধরে চলবে’। গত মার্চ মাসের শেষভাগের জরিপেও এই হার ছিল ৬৫ শতাংশ। অন্যদিকে, মাত্র ১৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন এই যুদ্ধ ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বেশ দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে’।
চলমান সংঘাতের অংশ হিসেবে গত ২৬ জুন থেকে ইরানের ওপর নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী। তবে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক হামলাকে সমর্থন করছেন মাত্র ৩৭ শতাংশ মার্কিনী।
হাজারের বেশি মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর দেশজুড়ে পরিচালিত এই জরিপে আরও বেশ কিছু উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে আগামী বছরজুড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন নাগরিকেরা। জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশ মানুষ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে যুদ্ধের কারণে আগামী এক বছরে জ্বালানি তেলের (গ্যাসোলিন) দাম আরও বাড়বে। এছাড়া অর্ধেক উত্তরদাতাই মনে করছেন, বিপুল পরিমাণ অর্থ ও ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে এই যুদ্ধের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম সর্বনিম্ন স্তরে এসে ঠেকেছে এই জনপ্রিয়তার সূচক। রিপাবলিকান পার্টির নীতিনির্ধারকেরা সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে, তা ট্রাম্প প্রশাসনের কর হ্রাসের রাজনৈতিক সাফল্যকে সম্পূর্ণ ম্লান করে দিয়েছে।
সময়ের আলো/কহু