মহাকাশে তারার মাঝে ভেসে বেড়ানো চিনির সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মহাজাগতিক শূন্যতা বা আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যম (ইন্টারস্টেলার মিডিয়াম) এবার আরও কিছুটা মিষ্টি হয়ে উঠল। মহাকাশের গভীর শূন্যতায় ভেসে বেড়ানো ধূলিকণা ও

2026-07-14T11:26:35+00:00
2026-07-14T11:26:35+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
মহাকাশে তারার মাঝে ভেসে বেড়ানো চিনির সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৬ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
মহাজাগতিক শূন্যতা বা আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যম (ইন্টারস্টেলার মিডিয়াম) এবার আরও কিছুটা মিষ্টি হয়ে উঠল। মহাকাশের গভীর শূন্যতায় ভেসে বেড়ানো ধূলিকণা ও গ্যাসের পাতলা মেঘের মধ্যে এক বিশেষ ধরনের চিনির (সুগার) সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত এই উপাদানটির নাম ‘এরিথ্রুলোজ’। পৃথিবীতে এই চিনিটি মূলত লাল রাস্পবেরি ফল এবং কৃত্রিমভাবে ত্বক ট্যান করার প্রসাধনীতে (সেলফ-ট্যানার) পাওয়া যায়।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’-তে এই চমকপ্রদ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। স্পেনে অবস্থিত দুটি বিশালাকার ডিশ-অ্যান্টেনা সদৃশ রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে আমাদের ছায়াপথ ‘মিল্কিওয়ে’ বা আকাশগঙ্গার কেন্দ্রস্থলের কাছে একটি বিশাল গ্যাস মেঘ থেকে ডেটা সংগ্রহ করেন গবেষকরা। পরবর্তীতে ল্যাবরেটরিতে থাকা নমুনার সাথে টেলিস্কোপের সিগন্যাল মিলিয়ে গ্যাসীয় অবস্থায় থাকা এই চিনির কণাগুলো শনাক্ত করা হয়। এটি মহাকাশে আবিষ্কৃত এখন পর্যন্ত অন্যতম জটিল গঠনবিশিষ্ট চিনি। কাকতালীয়ভাবে, মহাকাশের যে অঞ্চলে এই চিনির সন্ধান মিলেছে, সেই পথ দিয়েই বর্তমানে পথ চলছে নাসার যমজ মহাকাশযান ‘ভয়েজার’— যা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে যাওয়া মানবনির্মিত যান।

চিনি কেবল চা মিষ্টি করা কিংবা ডোনাটের ওপর ছড়িয়ে দেওয়ার উপাদানই নয়, বরং বিভিন্ন ধরনের চিনি আমাদের শরীরের কোষের জ্বালানি জোগায় এবং ডিএনএ গঠনে ভূমিকা রাখে। তাই পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি কীভাবে হয়েছিল, তা বুঝতে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সুগারের গঠনের ওপর গবেষণা করছেন।

আমেরিকার অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী এরিকা হ্যামডেন (যিনি এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না) বলেন, এটি ছায়াপথে ভেসে বেড়ানো আদিম ও খাঁটি উপাদানের একটি চমৎকার উদাহরণ। নতুন আবিষ্কৃত এই চিনিটি সরাসরি প্রাণের জন্য অপরিহার্য না হলেও, এটি খুব সহজেই এমন এক রূপে রূপান্তরিত হতে পারে যা পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা বা ‘কিক-স্টার্ট’ করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

গলফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মহাকাশের এই অনুসন্ধান মূলত একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে। দূর অতীতের কোনো ধূমকেতু বা মহাকাশীয় শিলা কি পৃথিবীতে প্রাণের এসব মূল উপাদান বয়ে এনেছিল, নাকি আমাদের সৌরজগৎ তৈরি হওয়ার সময় এই উপাদানগুলো আগে থেকেই এখানে উপস্থিত ছিল? নতুন এই আবিষ্কার দ্বিতীয় তত্ত্বটির পক্ষে জোরালো প্রমাণ জোগাচ্ছে।

স্পেনের ‘সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোবায়োলজি’-র জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক ইজাসকুন জিমেনেজ-সেরা বলেন, ছায়াপথের এক জায়গায় এই উপাদান পাওয়ার অর্থ হলো এটি মহাবিশ্বের অন্যান্য দূরবর্তী কোণেও লুকিয়ে আছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রাণের উৎপত্তির মূল উপাদানগুলো যদি ছায়াপথের অন্যান্য অঞ্চলেও উপস্থিত থাকে, তবে মহাবিশ্বের অন্য কোথাও জীবন বা ভিনগ্রহের প্রাণের বিকাশ ঘটার সম্ভাবনা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়।

সময়ের আলো/কহু


  বিষয়:   সময়ের আলো  চিনি  মহাকাশ 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: