ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। এই হামলাকে ইয়েমেনের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে তেহরান।
গতকাল সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাঈ এই প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি এই হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ এবং ইয়েমেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
বাকাঈ বলেন, এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চলমান প্রচেষ্টার পরিপন্থী। এটি ২০২২ সালের অস্ত্রবিরতি চুক্তি এবং পরবর্তী সময়ে উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে নেওয়া অন্যান্য পদক্ষেপের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করে।
ইরানি মুখপাত্র আরও যোগ করেন, একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলা চালানো এবং যাত্রীবাহী বিমানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক আচরণ আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে ইয়েমেনের সানা নিয়ন্ত্রণকারী হুথি গোষ্ঠী অভিযোগ করে, সৌদি আরব সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমাবর্ষণ করেছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সৌদি-সমর্থিত সরকার অবশ্য জানিয়েছে, তেহরান থেকে আসা একটি ইরানি বিমানকে সানায় অবতরণ করা থেকে বিরত রাখতে বিমানবন্দরের রানওয়ে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া ইয়েমেন যুদ্ধে ২০২২ সালে অস্ত্রবিরতির পর এটিই সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার ঘটনা, যা এই অঞ্চলের ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়াকে নতুন করে হুমকিতে ফেলেছে। তেহরান এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সময়ের আলো/কহু