সৌদি আরব যদি ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালী’ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। ইয়েমেনের ইরানপন্থী আনসারুল্লাহ (হুথি) আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর সিনিয়র সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ সোমবার এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পথ বন্ধ হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ২০০ ডলারে গিয়ে ঠেকবে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ ধাক্কা দেবে।
মোহাম্মদ আল-ফারাহ দাবি করেন, ইয়েমেনে হামলা চালানোর জন্য রিয়াদ প্রশাসনকে উস্কানি দিচ্ছে ওয়াশিংটন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও কোনো সুফল বয়ে আনবে না। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির যদি আরও অবনতি হয়, তবে একটি সামরিক জোটের (অপারেশনাল অ্যালায়েন্স) মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালীর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলশ্রুতিতে তেলের দাম এক ধাক্কায় ২০০ ডলারে পৌঁছাবে। সৌদি আরব বা তাদের প্রক্সি বাহিনী কোনো ধরনের আগ্রাসন চালালে সানা সরকার তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে এবং সৌদির অভ্যন্তরে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দীর্ঘদিন যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের পর সম্প্রতি সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি জোটের বিমান হামলার পর নতুন করে এই উত্তেজনা শুরু হয়। ইয়েমেনের সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য মোহাম্মদ আলী আল-হুথি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বেসামরিক স্থাপনা ও বিমানবন্দরে বোমাবর্ষণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং এটি ইয়েমেনি জনগণের বিরুদ্ধে সৌদি-মার্কিন জোটের যুদ্ধাপরাধের অংশ।
আনসারুল্লাহ ব্যুরোর আরেক সদস্য আলী আল-কাহুম জানিয়েছেন, তাদের সশস্ত্র বাহিনী খুব শীঘ্রই এই সৌদি আগ্রাসনের প্রতিশোধ নেবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইয়েমেনের ওপর গত ১১ বছর ধরে চলা অবরোধ ভাঙার লড়াই কখনোই থামবে না এবং এর ফলে সৃষ্ট যেকোনো পরিস্থিতির জন্য শত্রুপক্ষই দায়ী থাকবে।
‘বাব আল-মান্দেব’ হচ্ছে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ, যার মধ্য দিয়ে সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ সুয়েজ খালের দিকে যাতায়াত করে। মাত্র ২৯ কিলোমিটার প্রশস্ত এই সংকীর্ণ প্রণালীটি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্ববাজারের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়।
সময়ের আলো/কহু