২০২৬ বিশ্বকাপ জুড়ে যে ফ্রান্স ছিল অপ্রতিরোধ্য, সেমিফাইনালের মঞ্চে তাদেরই খুঁজেই পাওয়া গেল না। গতিময় ও আগ্রাসী ফুটবলের অবিশ্বাস্য প্রদর্শনীতে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে টিকিট কাটল স্পেন। ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দলের মুখোমুখি হবে স্প্যানিশরা।
ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। ম্যাচের ১০ মিনিটে স্পেনের দানি ওলমোকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ফরাসি মিডফিল্ডার আদ্রিওঁ রাবিও। ম্যাচের ২০ মিনিটে পেনাল্টি পায় স্পেন। ফরাসি ডিফেন্ডার লুকা দিনিয়ে নিজেদের বক্সে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান।
২২ মিনিটে সফল স্পট কিক থেকে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। এই গোলের মাধ্যমে ২০০৮-০৯ মৌসুমে দাভিদ ভিয়ার করা ১৩ গোলের রেকর্ড ভেঙে এক মৌসুমে স্পেনের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ গোলের নতুন ইতিহাস গড়েন ওইয়ারসাবাল।
পিছিয়ে পড়ার পর ৩০ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় ফ্রান্স, চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা। তার জায়গায় মাঠে নামেন ম্যাক্সাঁস লাক্রোয়া। প্রথমার্ধে মাঠের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফরাসি শিবিরের ক্ষোভ থাকলেও ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্পেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই রাবিওকে তুলে মানু কোনেকে মাঠে নামায় ফ্রান্স। তবে ম্যাচের ৫৮ মিনিটে ফরাসিদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন পেদ্রো পোরো। ওলমোর সঙ্গে দ্রুত ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে দারুণ ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। পিছিয়ে পড়ে বারকোলাকে তুলে দেজিরে দুয়েকে নামায় ফ্রান্স।
৬৪ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। ৭২ মিনিটে ওলিসে ও দিনিয়েকে তুলে শেরকি ও থিও হার্নান্দেজকে নামালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
পুরো ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসে ত্রয়ী স্পেনের জমাট রক্ষণে ফাটল ধরাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। পুরো ম্যাচে লক্ষ্যে মাত্র একটি শট রাখতে পারা ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের হতাশাজনক হার নিয়ে বিদায় নেয় শেষ চার থেকেই।
সময়ের আলো/জেডি