বছর পেরোয়, দুর্ভোগ কমে না

মেহেদী হাসান লিটন শ্রীপুর (গাজীপুর)

সারাদেশ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সলিং মোড় থেকে আনন্দবাজার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক এখন যেন এক নরকযন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে।

2026-07-15T05:10:53+00:00
2026-07-15T05:11:12+00:00
 
  বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬,
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
শ্রীপুরে সড়কজুড়ে নরকযন্ত্রণা
বছর পেরোয়, দুর্ভোগ কমে না
মেহেদী হাসান লিটন শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৫:১০ এএম  আপডেট: ১৫.০৭.২০২৬ ৫:১১ এএম
সড়কে খানাখন্দ, কাদা ও জলাবদ্ধতা। ছবি : সময়ের আলো
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সলিং মোড় থেকে আনন্দবাজার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক এখন যেন এক নরকযন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে খানাখন্দ, কাদা ও জলাবদ্ধতায় বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। 

শুধু শ্রীপুর নয়, টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা এবং ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের মাওনা চৌরাস্তায় যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায়। 

পানির নিচে লুকিয়ে থাকা বড় বড় গর্তের কারণে প্রায়ই অটোরিকশা, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, পোশাক কারখানার শ্রমিক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও রোগীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন।

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরসিসি ঢালাইয়ের জন্য চলতি মাসে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। জিওবি মেইনটেন্যান্স প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা, কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও সাংবাদিক ইজাজ আহাম্মেদ মিলন বলেন, এই সড়কটি দুটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক। প্রতিদিন ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহনসহ হাজারো মানুষ এ পথে চলাচল করেন। এ ছাড়া টাঙ্গাইলের সখীপুর এবং ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কয়েকটি এলাকার মানুষও সহজ যোগাযোগের জন্য নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করেন। 

দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি খানাখন্দে ভরে থাকায় চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে সড়কের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায় না। ফলে প্রায়ই মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে যাত্রী ও পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও কৃষকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। অথচ বছরের পর বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় জনভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। তাই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

অটোরিকশাচালক মো. সোবহান মিয়া বলেন, রাস্তাটি এতটাই ভাঙাচোরা যে ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। প্রতিনিয়ত গাড়ির বডি ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। সপ্তাহে অন্তত দুবার গাড়ি গ্যারেজে নিতে হয়। বাড়তি ভাড়া চাইলে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হন। আমরা চালকরা চরম লোকসানের মধ্যে আছি।


৯১ নম্বর চকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সালমা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের সামনের সড়কটি খানাখন্দে ভরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সড়ক দিয়ে হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত কষ্টকর। অনেক শিক্ষার্থী সাইকেল ও অটোরিকশায় বিদ্যালয়ে আসে। প্রায়ই অটোরিকশা উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। 

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে সড়কে পানি ও কাদা জমে শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস নষ্ট হয়ে যায়। অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারে না। বিশেষ করে ছোট শিশুদের জন্য চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার না করা হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা আরও তীব্র হওয়ার আগেই দ্রুত স্থায়ীভাবে সড়কটি সংস্কার করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে হবে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি  



  বিষয়:   দুর্ভোগ  শ্রীপুর  সড়ক  নরকযন্ত্রণা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: