দীর্ঘ ২৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর অবশেষে রাজশাহী থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব রুটে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাস ছাড়তে শুরু করে। এর আগে আকস্মিক বাস ধর্মঘটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। শ্রমিক নেতারা জানান, সোমবার বিকেলে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে একটি বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে অধিকাংশ শ্রমিক প্রতিনিধি সাধারণ সভার মাধ্যমে ‘নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ গঠনের দাবি জানান। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক নিজে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন এবং সেখানে ‘রাজশাহী সড়ক পরিবহণ গ্রুপ’-এর সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালকে রাখার পরামর্শ দেন।
শ্রমিকদের একটি পক্ষ এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এর জের ধরে সোমবার রাত ৮টা থেকে আকস্মিকভাবে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। মূলত জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা রফিকুল ইসলাম পাখি এবং মোমিনুল ইসলাম মোমিনের নেতৃত্বাধীন দুই পক্ষের বিরোধেই এই অচলাবস্থা তৈরি হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসক রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার নূর আলম সিদ্দিকীকে দায়িত্ব দেন। মঙ্গলবার তিনি উভয় পক্ষকে নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়-মিন গ্রুপের আপত্তির মুখে নজরুল ইসলাম হেলালকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে রাখা হবে না। সম্পূর্ণ নির্বাচনটি জেলা প্রশাসকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন চলাকালীন টার্মিনাল পরিচালনার জন্য উভয় পক্ষের ৪ জন করে মোট ৮ সদস্যের একটি অস্থায়ী আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে।
উভয় পক্ষ এই সিদ্ধান্তে সম্মত হয়ে সন্ধ্যায় বাস চালুর ঘোষণা দিলেও শেষ মুহূর্তে নতুন জটিলতা তৈরি হয়। লিটন আলী নামে আরেক শ্রমিক নেতা নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ রাখার দাবিতে টার্মিনাল এলাকায় মাইকিং শুরু করেন। এতে বাস চলাচল শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তার সঙ্গেও সমঝোতা হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুরোদমে বাস চলাচল শুরু হয়।