নারায়ণগঞ্জের আদমজী রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এলাকার ‘অনন্ত অ্যাপারেলস লিমিটেড’-এর একটি ফ্যাব্রিক্স গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিটের প্রায় তিন ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে গোডাউনে থাকা বিপুল পরিমাণ কাপড় ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল পুড়ে গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ জানা যায়নি।
বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে গোডাউনটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। কাপড়ের গোডাউন হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কারখানার শ্রমিকরা জানান, ভোরের দিকে হঠাৎ গোডাউন থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন তীব্র আকার ধারণ করে। গোডাউনে বিপুল পরিমাণ ফ্যাব্রিক্স ও দাহ্য রাসায়নিক উপকরণ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে প্রথমে আদমজী ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। কিন্তু আগুনের তীব্রতা ক্রমেই বাড়তে থাকায় পর্যায়ক্রমে আশপাশের ৪টি ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ৮টি ইউনিট এসে যুক্ত হয়। সব মিলিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিটের টানা ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
সকাল থেকে আগুনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা তাপ ও সুপ্ত উৎস সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ‘ডাম্পিং’ (অগ্নিসংযোগের অবশিষ্টাংশ শীতলকরণ) কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
আদমজী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মিরন মিয়া বলেন, দীর্ঘ তিন ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনে গোডাউনে থাকা বিপুল পরিমাণ প্রস্তুতকৃত কাপড়, কাঁচামাল ও অন্যান্য সামগ্রী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গোডাউনে থাকা কোনো রাসায়নিক (কেমিক্যাল) থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও সঠিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।
সময়ের আলো/জোই