যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা চালায়, তবে লোহিত সাগরের জ্বালানি সরবরাহ পথ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নির্দেশ দিয়েছে তেহরান। রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের নীতি নির্ধারণী মহলে আলোচনার পর এই বার্তা তাদের মিত্র হুথিদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার পরই তেহরান এই কৌশলগত পাল্টা পদক্ষেপ নেয়।
হুথিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলবর্তী হোদাইদাহ ও এডেন উপসাগরের পাহাড়ি অঞ্চলে ইতিমধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন মোতায়েন করে জাহাজ চলাচলে হামলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে তারা। এখন শুধু তেহরান থেকে চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রতিনিধিরা এই প্রণালী বন্ধের মূল সিদ্ধান্ত নেবেন।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরান ইতিমধ্যেই পারস্য উপসাগরের মূল রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে, যা দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হতো। হরমুজ বন্ধ হওয়ার পর সৌদি আরব তাদের ৭০ শতাংশ তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের পাইপলাইনের মাধ্যমে বিকল্প রুটে পাঠানো ব্যবস্থা করে। এইদিকে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালীও যদি হুথিরা বন্ধ করে দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দুটি জ্বালানি রুটই একসঙ্গে অচল হয়ে পড়বে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াতেই ইরান এই ‘এক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ অক্ষের নীতি ব্যবহার করছে। একটি আঞ্চলিক সূত্র জানায়, বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করা খুব কঠিন কিছু নয়। আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও সাধারণ অস্ত্র ব্যবহার করে যে কেউ এই সরু জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে পারে।
সময়ের আলো/কহু