ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-কে যুক্তরাজ্যের নতুন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় ‘জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। এই ‘শত্রুতামূলক’ পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হুগো শর্টারকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ও সমমানের পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম ইউরোপ বিভাগের মহাপরিচালক আলিরেজা ইউসেফি ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তেহরানের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের কথা জানিয়ে দেন।
বৈঠকে ইউসেফি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এবং নিরাপত্তা মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা ইগলের দেওয়া বক্তব্য ও অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী। অথচ যুক্তরাজ্য নিজেই দীর্ঘদিন ধরে ইরান-বিরোধী বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও নেটওয়ার্কের নেতাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে আসছে।’
এর আগে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ঘোষণা করেন, যুক্তরাজ্যের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে আইআরজিসি-কে একটি রাষ্ট্রীয় হুমকি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় দেশটিতে আইআরজিসিকে সমর্থন বা সহযোগিতা করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।
ইরানের দাবি, আইআরজিসি হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী। ইরাক ও সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে এই বাহিনী লড়াই না করলে আজ পুরো ইউরোপজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ত। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত এই রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর যেকোনো ধরনের শত্রুতামূলক পদক্ষেপের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
সময়ের আলো/কহু