ইরানের বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এ হামলায় ইরানের চাবাহার বন্দরের একটি সামুদ্রিক নজরদারি টাওয়ার ধ্বংস হয়ে গেছে। শুক্রবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের মাকরান অঞ্চলের চাবাহার বন্দরের একটি সামুদ্রিক ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ধ্বংস করা হয়েছে। তেহরান এ হামলাকে ‘জঘন্য ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছে। দেশটির দাবি, এ হামলার মাধ্যমে ওই অঞ্চলের জেলেদের জীবিকা এবং বেসামরিক নৌচলাচলের নিরাপত্তা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এতে ‘সম্পূর্ণ বেসামরিক এ স্থাপনা’ ধ্বংস হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর এই মার্কিন হামলা আবারও পশ্চিমাদের দ্বৈতনীতি এবং ওয়াশিংটনের নিজেদের আরোপিত আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি অবজ্ঞা তুলে ধরেছে।
এদিকে মার্কিন হামলার পর নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে জরুরি বার্তা দিয়েছে ইরান। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর মার্কিন হামলার পর বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের এলাকাগুলো বর্তমানে তীব্র তাপপ্রবাহের পাশাপাশি বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলার প্রভাব মোকাবিলা করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সঞ্চালন লাইন নাকি অন্য কোনো সরঞ্জামের ওপর হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, টানা ষষ্ঠ রাতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের বিভিন্ন শহর এবং পাঁচটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের একটি আবাসিক এলাকায় মার্কিন হামলায় একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে হরমোজগান প্রদেশের বান্দার খামিরের কাছে দুটি সেতুতে পৃথক হামলায় সাতজন নিহত এবং নয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইআরআইবি।
এ ছাড়া কেশম দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলে চারটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য মতে, হরমোজগান প্রদেশের সিরিক এলাকাতেও একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলায় বান্দার আব্বাস-শিরাজ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বান্দার আব্বাসের পশ্চিমে তিনটি এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বুশেহরে দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্য মতে, বন্দর আব্বাসে হামলায় প্রাথমিক তথ্যে ধারণা করা হচ্ছে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সর্বশেষ ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, মার্কিন হামলায় মোট পাঁচটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে গারিভেহ ও কাহুরেস্তান সেতু রয়েছে। এসব সেতু ইরানের অভ্যন্তরীণ রসদ সরবরাহ ও সামরিক চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির এসব হামলায় কুয়েতের একটি পানি শোধনাগার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় ইরান দেশটির একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে স্থাপনাটিতে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। কারিগরি দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটগুলো মেরামত করে পুনরায় চালু করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ গ্রিডের স্থিতিশীলতাও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় নাগরিক ও বাসিন্দাদের যৌক্তিকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে ইরান দাবি করেছে, কুয়েতের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে দেশটির হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম (হিমারস) প্ল্যাটফর্ম ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী ও ইসরাইল-সমর্থিত যোদ্ধারা এসব স্থাপনায় অবস্থান করছিল।
সময়ের আলো/এসএকে