ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন ডিপো এবং মার্কিন বাহিনীর একটি প্রধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে চালানো অভিযানে এসব স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে আইআরজিসির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ধ্বংস করা এআই কেন্দ্রটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করত এবং সামরিক অভিযান পরিচালনা করত। আইআরজিসির অভিযোগ, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধে জড়িত ছিল।
এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। সংস্থাটি বলেছে, এখন থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের যেকোনো দেশে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্ব বা শেয়ার থাকা কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো তাদের লক্ষ্যবস্তু হবে। পাশাপাশি যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর কৌশলগত স্থাপনা ধ্বংসেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের বন্দরনগরী বুশেহরের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ (MQ-9) ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে আইআরজিসি নৌবাহিনী।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অধীনে পরিচালিত নতুন ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোনটি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় চলাচলের চেষ্টা করা চারটি তেলবাহী ট্যাংকার আটকেরও দাবি করেছে আইআরজিসি নৌবাহিনী।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযানের মাধ্যমে ট্যাংকারগুলোকে তাদের নিজ নিজ অবস্থানে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নৌ-অবরোধের ঘোষণার পর জারি করা ওই বিবৃতিতে জাহাজ মালিকদের আইআরজিসির নির্দেশনা ও সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু দেশের নেতাদের মতো জাহাজ মালিকদেরও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি 'ভিত্তিহীন সমর্থনের ফাঁদে' পা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তবে আইআরজিসির এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা বাহরাইনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্বাধীন কোনো সূত্র থেকেও এসব দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সময়ের আলো/এসএকে