লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ও তোরাবগঞ্জ সীমানা সড়কটির (দোপা সড়ক) দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বেহাল দশা বিরাজ করছে। প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ইটের সড়কটি বর্তমানে খানাখন্দ আর ভাঙা সলিংয়ের কারণে স্থানীয়দের জন্য সড়ক নয়, যেন এক ‘মরণ ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। সড়কটির বেহাল দশার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ পথচারীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তোরাবগঞ্জ ও চর কাদিরা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘হোন্নার বাপের সমাজ’ থেকে শুরু করে ‘জমাদার সমাজ’ হয়ে ‘সদাগর রাস্তার মাথা’ পর্যন্ত বিস্তৃত ৫ কিলোমিটারের এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় সড়কটির ইটের সলিং সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের কষ্টের কোনো শেষ নেই। রাস্তাটির যে অবস্থা, তাতে এখন হাটে-বাজারে যাতায়াত করাও আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো অবস্থাও নেই।
একই ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী রুবেল হোসেন বলেন, এই রাস্তায় চলাচল করা এখন চরম কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। যে-কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা দ্রুত এই সড়কের সংস্কার চাই।
সড়কটির অতীত ইতিহাস ও বর্তমান উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চর কাদিরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আকরাম হোসেন শাহেদ হাওলাদার বলেন, এই সড়কটি আমাদের সাবেক এমপি ও বর্তমান সংসদের হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান সাহেব করে দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি নষ্ট হয়ে গেছে। তবে আশার কথা হলো, আমরা পুনরায় সড়কটি পাকা করার জন্য তালিকা পাঠিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, এবার দ্রুতই সড়কটি সংস্কারের কাজ শুরু হবে।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ জামান জানান, সড়কটির বেহাল দশার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আশা করছি সামনের সরকারি প্রকল্প থেকেই এই সড়কের সংস্কার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, আর কোনো ফাঁকা আশ্বাস নয়, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে যেন অতি দ্রুত এই ‘দোপা সড়ক’ সংস্কার করে তাদের দীর্ঘ ২৫ বছরের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হয়।
মোখলেছুর রহমান ধনু