ভেঙেছে ২১২ কিমি সড়ক, ভেসে গেছে ২৩ হাজার পুকুর

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সারাদেশ

ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক অবকাঠামো, মৎস্য, প্রাণিসম্পদের ক্ষতি শত কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

2026-07-18T08:59:22+00:00
2026-07-18T08:59:22+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
চট্টগ্রামের ৫ জেলায় বন্যা
ভেঙেছে ২১২ কিমি সড়ক, ভেসে গেছে ২৩ হাজার পুকুর
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫৯ এএম 
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির কর্দমাক্ত মেঝেতে বসে দুই সন্তানকে নিয়ে খাবার খাচ্ছেন এক মা। গতকাল তোলা। ছবি : সময়ের আলো
ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক অবকাঠামো, মৎস্য, প্রাণিসম্পদের ক্ষতি শত কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক হিসাবে মৎস্য এবং যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে পাঁচ জেলায় ক্ষতি ৪০০ কোটি ছাড়িয়েছে। বিধ্বস্ত সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্ট মেরামতে প্রায় ৪২৩ কোটি টাকা প্রয়োজনের তথ্য উঠে এসেছে প্রাথমিক হিসাবে। 

বুধবার রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিভিন্ন খাতে ক্ষতির তথ্য তুলে ধরেন। তার মতে, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কৃষি খাতে প্রায় ৪৪ হাজার ৭৯৩ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার ৭৩৫ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। 

বিপুল ক্ষতি সড়ক অবকাঠামোর : বন্যায় চট্টগ্রামসহ পাঁচ জেলায় সড়ক অবকাঠামোর বিপুল ক্ষতি হয়েছে। জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। সড়ক ধসে পড়া, পিচ ও কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কের ওপর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে নষ্ট হয়ে গেছ। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়ে গেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, পাঁচ জেলায় ৮৪৬টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২১টি সড়কে যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৫৫ কিলোমিটার। এ ছাড়া এপ্রোচ রোডসহ ২৩৫টি ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত। 

এসব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ও মেরামতে আনুমানিক ৪২৩ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে প্রাথমিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ জেলায় ২১২ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার মহাসড়ক, ৫টি ব্রিজ ও একটি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এককভাবে চট্টগ্রামে সড়ক অবকাঠামোর বিপুল ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও জনপদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রাম জোনে মোট ২১৩ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 চট্টগ্রাম অঞ্চলে সার্বিকভাবে এক হাজার ৩২০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশিরভাগই গ্রামীণ সড়ক। বন্যাকবলিত গ্রামীণ এলাকার সড়ক অবকাঠামো বলতে কিছুই নেই। সড়কের বড় অংশ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রায় ৩৭৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১৪ হাজার ৩০০ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধান, শাকসবজি, পানের বরজসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে নষ্ট হয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলায় প্রায় অর্ধেক কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়েছে। 

মৎস্য খাতে বিশাল ক্ষতি : ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভেসে গেছে শত শত পুকুর মৎস্য ঘের। মৎস্য খাতেই বিপুল ক্ষতি হয়েছে। এ খাতে প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২১০ কোটি টাকা। ২৩ হাজার ৬১০টি পুকুর, দীঘি ও খামার এবং ৭৮৯টি মাছের ঘের ভেসে গেছে বন্যায়। 

চট্টগ্রামের পাশাপাশি বিপুল ক্ষতি হয়েছে চার জেলায়। চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, পটিয়া, আনোয়ারা কর্ণফুলী, লোহাগাড়া, পটিয়া, বোয়ালখালী উপজেলার বিপুল ক্ষতি হয়েছে। বেশি ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলায়। কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলা, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, কাপ্তাই, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, মহালছড়ি, সদর, পানছড়ি ও মাটিরাঙা, বান্দরবান সদর, নাইক্ষ্যংছড়ি, লামারু উপজেলায় ক্ষতি অতীতের রেকর্ড ভেঙেছে। 
চট্টগ্রামের উপজেলাভিত্তিক হিসাবে বিপুল ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। 

এর মধ্যে পটিয়া উপজেলায় বন্যায় ১৫টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৩৫টি পুকুর ও দীঘি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে রাউজান উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৯০টি, চন্দনাইশে ১০টি ইউনিয়নের ৩৮৩টি, লোহাগাড়ায় ৯টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৬২০টি, মিরসরাইয়ে ৩টি ইউনিয়নে ৯৭টি, সীতাকুণ্ডের তিনটি ইউনিয়নে ১০টি, সন্দ্বীপে ১৩টি ইউনিয়নে ৪১২টি, বোয়ালখালীতে নয়টি ইউনিয়নে ৭৫৬টি, আনোয়ারায় ১১টি ইউনিয়নে ১ হাজার ১০০টি, বাঁশখালীতে ১৪টি ইউনিয়নে ২ হাজার ৫০০টি, ফটিকছড়িতে ১৮টি ইউনিয়নে ৫৩৩টি, হাটহাজারীতে আটটি ইউনিয়নে ১৭০টি, কর্ণফুলীতে পাঁচটি ইউনিয়নে ৫৫৭টি এবং রাঙ্গুনিয়ায় ১২টি ইউনিয়নে ২৭০টি পুকুর-দীঘির মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম বলেন, বন্যায় কম বেশি সব উপজেলায় মৎস্য খাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি উপজেলায় মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে ৩ হাজার ২১১ দশমিক ৯২ হেক্টর পুকুর-দীঘি ও ৯০০ হেক্টর ঘের ক্ষতিগ্রস্ত। এতে মোট ৯১ কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলমান। 

আট লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত ৫৮ : চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় আট লাখ ৬৬ হাজার ৬১৪ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ছয় লাখ ৬২ হাজার মানুষ। চট্টগ্রাম মহানগরীসহ জেলার ১৬টি উপজেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার এক লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮ পরিবার ক্ষতির শিকার মুখে পড়েছে। ১৫ উপজেলায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনও তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছে। বেশি ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায়। এই দুই উপজেলাতেই প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ দীঘ সময় পানিবন্দি ছিলেন। 

এদিকে শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, বন্যা পাহাড় ধসে পাঁচ জেলায় নিহত মানুষের সংখ্যা ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। বেশি মানুষ মারা গেছে কক্সবাজার জেলায়। নিহতদের মধ্যে ছয়জন শিশুও আছে। আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষ। দুর্গত এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল কম। বন্যায় চট্টগ্রামে ১৪ হাজার ২৮১টি বসতঘর ভেঙে যায়।
 
রেকর্ড ক্ষতি প্রাণিসম্পদের : ভয়াবহ বন্যায় পাঁচ জেলায় প্রাণিসম্পদের বিপুল ক্ষতি হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলায় রেকর্ড ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের প্রাথমিক হিসাবে বিপুল ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে। বন্যায় গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ৮২৭টি। এর মধ্যে গরু ৪৫-৪৬টি। চট্টগ্রাম জেলাতেই ৩৯টি গবাদি পশুর মৃত্যু। ছাগল মারা গেছে ১২৩টি। 

এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৯৫টি ছাগল মারা গেছে। ভেড়া মারা গেছে ৪০-৪২টি। সবচেয়ে বেশি মারা গেছে মুরগি। এক লাখ এক হাজার থেকে এক লাখ ৪২ হাজারের বেশি মুরগি মারা গেছে। হাঁস মারা গেছে প্রায় এক হাজার ৫২১টি। প্রাণীর মৃত্যুর কারণে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় তিন কোটি ৭৮ লাখ টাকার। 

খামার ধ্বংস ও পশুখাদ্য নষ্ট হওয়ায় সব মিলে প্রাণিসম্পদ খাতে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। শুধু চট্টগ্রাম জেলাতে প্রাণিসম্পদের ক্ষতির পরিমাণ ৬০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায় প্রাণিসম্পদের ক্ষতির পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির ৮৫টি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বাঁশখালীতে ২২টি, পটিয়ায় ২০টি ও সাতকানিয়ায় ১৫টি গবাদি পশুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হাজার টন পশু খাদ্য তলিয়ে গেছে : প্রাণিসম্পদের পাশাপাশি বন্যার পানিতে প্রায় ১৭ হাজার ৮৪০ থেকে ১৮ হাজার ৪৬৮ টন পশুখাদ্য তলিয়ে গেছে। এসব খাবারের মধ্যে আছে খড় কাঁচা ঘাস ও দানাদার খাদ্য। পানিতে নষ্ট হওয়ায় এসব আর খাবার উপযোগী নয়। পশু খাদ্যের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ থেকে ২৫ কোটি টাকার বেশি।
 
খামারিরা বলছেন, বন্যায় বিপুল পশু খাদ্য নষ্ট হয়েছে। বিপুল পশু খাদ্যের ক্ষতি প্রাণী মৃত্যুর চেয়েও বেশি। বেঁচে থাকা প্রাণিসম্পদের জন্য খাবার জোগান দেওয়া কঠিন। 

এক হাজার ২০০ কৃষকের ক্ষতি : বন্যায় কৃষি খাতে ভয়াবহ ক্ষতির চিত্র উঠে আসছে। কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। সরাসরি এক হাজার ২০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষতি হওয়ায় বাজারে ব্যাপক সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতিটি সবজির আইটেমের দাম বাড়ছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যে দেখা যায়, জমিতে থাকা আউশ ধান, আমন বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজি, পানের বরজ, আদা-হলুদ ও উদ্যান ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি আউশ আবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার ২২ দশমিক ৫ হেক্টর আউশ আবাদের মধ্যে ৯ হাজার ৪৩ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

২ হাজার ৭২১ দশমিক ৬৭ হেক্টর আমন বীজতলার মধ্যে ৯৬০ দশমিক ৬৬ হেক্টর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৭ হাজার ৮২৮ দশমিক ৬৫ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে ৫ হাজার ৯০৭ হেক্টর আক্রান্ত হয়েছে। এতে সরাসরি প্রায় এক হাজার ২০০ কৃষকের ছয় কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, এবারের বন্যায় ফসলের বিপুল ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে বিপুল ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষতির হিসাব আরও যাচাই করা হচ্ছে। এরপর কৃষক ও কৃষি খাতের পূর্ণাঙ্গ ক্ষতির চিত্র পাওয়া যাবে। 

ত্রাণ অপ্রতুল, নগদ সাহায্য কম : চট্টগ্রামসহ পাঁচ জেলায় বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে বড় অভিযোগ ছিল সরকারি পর্যায়ে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে অপ্রতুল। ক্ষতিগ্রস্ত বানবাসীদের নগদ সাহায্যও তেমন দেওয়া হয়নি। বেসরকারি পর্যায়ে যে পরিমাণ ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে তা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের তেমন কিছুই হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অপ্রতুল ত্রাণ ছিল শুরুর দিকে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক হারে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন সরকারিভাবে স্থানীয় প্রশাসন ত্রাণ বিতরণ করেছে। বন্যায় দুর্গতদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ জুলাই বন্যাদুর্গতদের দ্রুত সহায়তার নির্দেশ দেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

পরিস্থিতি চরম অবনতি হলে সেনাবাহিনী উদ্ধার কাজ শুরু করে। সেনাবাহিনীর ১০ ও ২৪ পদাতিক ডিভিশন উদ্ধারকাজ শুরু করে ব্যাপকভাবে। এতে দুর্গতদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। বন্যায় মারা যাওয়া প্রতিটি গরুর জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং প্রতিটি ছাগল বা ভেড়ার জন্য ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। 

বাঁশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার একটি বাঁশখালী। এই উপজেলায় সরকারের বরাদ্দ দেওয়া বিপুল চাল ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে শুকনা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। 

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ত্রাণ তৎপরতা শুরু থেকেই ছিল। এখনও অব্যাহত আছে। যতদিন প্রয়োজন হয় সরকারিভাবে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে। 

বাঁশখালী প্রতিনিধি জানান, সরকারিভাবে ত্রাণ সরবরাহের কথা জানানো হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এই উপজেলার দুর্গত এলাকায় এখনও প্রশাসনের কারও পা পড়েনি। অনেকে নামেমাত্র ত্রাণ পেয়েছেন। ত্রাণ সংকটে বন্যার্তরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। তারা চান চাহিদার সমান না হলেও অন্তত কিছু হলেও যেন ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়।

চট্টগ্রামের পর বেশি ক্ষতি কক্সবাজারে : বন্যা ও পাহাড় ধসে রেকর্ড মৃত্যুর পর সড়ক কৃষি ও মৎস্য খাতে শত কোটি কারা ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজারে। ককক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার প্রতিটি খাতেই বিপুল ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢলে ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৯টি এবং পাঁচটি পৌরসভার মধ্যে চারটি প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ৪৯ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যায় আড়াই লাখের অধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। 

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পেকয়া উপজেলার ৯৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। এরপর মাতামুহুরী উপজেলায় ৮৫ শতাংশ, চকরিয়ায় ৮০ শতাংশ, কুতুবদিয়ায় ৬৫ শতাংশ এবং মহেশখালীতে ৫০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। রামু উপজেলার ৩৫ শতাংশ, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ২৫ শতাংশ এবং ঈদগাঁও উপজেলার ৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও


  বিষয়:   সড়ক  পুকুর  চট্টগ্রাম  বন্যা  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: