বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার আগ্রহ দেখান। তবে অনেকেরই জানা থাকে না, কোন দেশগুলোতে স্টুডেন্ট ভিসার প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ। ইউরোপে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা নীতিমালা, খরচ ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা থাকা জরুরি।
ইউরোপের যেসব দেশে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া তুলনামূলক সহজ
ইউরোপে প্রায় ৫০টি দেশ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু দেশের স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া অন্যান্য দেশের তুলনায় সহজ বলে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে পড়াশোনার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেশি।
লিথুয়ানিয়া
সেনজেন অঞ্চলের এই দেশটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। তুলনামূলক কম খরচে এখানে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া যায় এবং স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়াও অনেকের কাছে সহজ মনে হয়।
হাঙ্গেরি
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাঙ্গেরির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। কম খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং তুলনামূলক সহজ ভিসা প্রক্রিয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী দেশটিকে বেছে নিচ্ছেন।
পর্তুগাল
পর্তুগালের স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হিসেবে পরিচিত। অনেক ক্ষেত্রে আইইএলটিএস স্কোর ৫.৫ থাকলেও আবেদন করার সুযোগ পাওয়া যায়। পাশাপাশি দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ নিয়েও অনেক শিক্ষার্থীর আগ্রহ রয়েছে।
ইতালি
যেসব শিক্ষার্থীর একাডেমিক ফলাফল ভালো এবং ভাষাগত দক্ষতা রয়েছে, তারা ইতালির স্টুডেন্ট ভিসার জন্য ভালো সুযোগ পেতে পারেন। ইংরেজি বা ইতালীয় ভাষায় দক্ষতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নেদারল্যান্ডস
উচ্চশিক্ষার জন্য নেদারল্যান্ডসও একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। দেশটির স্টুডেন্ট ভিসার অনুমোদনের হার তুলনামূলক ভালো। সাধারণত আইইএলটিএস স্কোর ৬.৫ বা তার বেশি হলে আবেদনকারীরা সুবিধা পেতে পারেন।
ইউরোপে পড়াশোনার পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ খোঁজেন। এ ক্ষেত্রে পর্তুগালসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ তুলনামূলক সহজ বলে মনে করা হয়।
এ ছাড়া আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি, গ্রিস, সুইডেন, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোতেও দীর্ঘমেয়াদে বসবাস ও নাগরিকত্বের সুযোগ রয়েছে। তবে প্রতিটি দেশের ভিসা ও অভিবাসন নীতিমালা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ নিয়ম জানা গুরুত্বপূর্ণ।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ