জন্মের পর পৃথিবীটাকে ঠিকমতো দেখার আগেই শুরু হয়েছিল ছোট্ট মুনতাসিরের জীবনযুদ্ধ। অন্য শিশুরা যখন হাসতে ও খেলতে শেখে, তখন তার শৈশব কেটেছে হাসপাতালের বিছানায়, অস্ত্রোপচারের কক্ষে আর চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুল্লাহ মুন্সীর বাড়ির আট বছরের শিশু মোহাম্মদ মুনতাসির জন্ম থেকেই ‘হাইড্রোকেফালাস’ (মস্তিষ্কে পানি জমা) রোগে আক্রান্ত। গত আট বছরে তাকে ছয়-ছয়টি জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু তার চিকিৎসার এই দীর্ঘ ও কঠিন পথ এখনো শেষ হয়নি।
একের পর এক অস্ত্রোপচার, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর হাসপাতালের খরচ মেটাতে গিয়ে পরিবারটি আজ পুরোপুরি নিঃস্ব। সন্তানের জীবন বাঁচাতে বাবা আকরাম খান মানিক নিজের জীবনের সমস্ত সঞ্চয় শেষ করেছেন, হয়েছেন ঋণে জর্জরিত। এখন চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো সামর্থ্যই তার অবশিষ্ট নেই।
অসহায় বাবা আকরাম খান মানিক আকুল কণ্ঠে বলেন, আমার একমাত্র ছেলেটাকে বাঁচাতে সবার দোয়া ও একটু সহযোগিতা চাই। আপনাদের সামান্য সাহায্যই হয়তো আমার সন্তানের বেঁচে থাকার নতুন আশা হয়ে উঠবে। জীবনযুদ্ধে আমি আর পেরে উঠছি না। বিত্তবানরা এগিয়ে এলেই আমার কলিজার টুকরাকে বাঁচানো সম্ভব।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম কামাল উদ্দিন জানান, শিশুটি হাইড্রোকেফালাস রোগে ভুগছে। তাকে বাঁচাতে হলে আরও উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে তার ছয়টি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, আরও অস্ত্রোপচার লাগবে। এর জন্য প্রচুর সময় ও অর্থের প্রয়োজন।
মুনতাসিরের স্বপ্ন খুব সাধারণ—সুস্থ হয়ে অন্য শিশুদের মতো স্কুলে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করা আর হেসেখেলে বাঁচা। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এখন সবচেয়ে বড় বাধা অর্থাভাব।
মানুষ মানুষের জন্য—এই বিশ্বাস থেকেই শিশুটির পরিবার সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। আপনার সামান্য সহায়তাই পারে একটি নিষ্পাপ শিশুকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিতে।
সাহায্য পাঠানোর বিকাশ (পার্সোনাল): ০১৮৮৮৩৩০৩৫৮
সময়ের আলো/জোই