‘খালা, আমার চোখ তো ঝলসে গেছে। কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। আমার ছেলেটাকেও শেষবারের মতো দেখতে পারছি না। আমার অবুঝ শিশুটাকে দেখে রাখবেন।’- আইসিইউতে নেওয়ার ঠিক আগে খালা নার্গিস আক্তারের উদ্দেশে কথাগুলো বলেছিলেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়া নূর নবী হৃদয় (২৫)।
দগ্ধ হওয়ার ৪ দিন পর রোববার (১৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর নবী হৃদয় (২৫)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে কারখানাটিতে ঘটে ভয়াবহ সেই বিস্ফোরণ। মুহূর্তেই আগুনে দগ্ধ হন হৃদয়সহ ১১ শ্রমিক।
হৃদয় বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরখিজিরপুর গ্রামের উত্তর সাতঘড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা। মাত্র ২ বছরের সংসার তার। ঘরে ১ বছর দুই মাস বয়সী একমাত্র ছেলে। সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় কন্ট্রাকটারের অধীনে কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডে কাজ করতেন তিনি।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, হৃদয়ের শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। প্রথমে তাকে চমেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। টানা ৪ দিন চিকিৎসার পর মারা যান তিনি।
হৃদয়ের খালা নার্গিস আক্তার বলেন, “আইসিইউতে নেওয়ার আগে ও শুধু বলছিল, ‘আমাকে আওয়াল-আখেরে মাফ করে দেবেন। আমার মাসুম বাচ্চাটাকে দেখবেন।’ এরপর আর কোনো কথা বলতে পারেনি।”
উল্লেখ্য, কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের ওই বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ৪ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত অন্যরা হলেন পটিয়ার নুরুল আলম, বোয়ালখালীর দিদার আলম এবং রাঙ্গুনিয়ার উজ্জ্বল দাশ। আহত অন্য শ্রমিকদের কয়েকজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সময়ের আলো/মহু